Logo

আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে তেরঙ্গা পদযাত্রা বন্ধ, দিপকে-নেহা বোরা আটক

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩০

অ
দিল্লিতে তেরঙ্গা পদযাত্রা বন্ধ, দিপকে-নেহা বোরা আটক

# সেন্ট্রাল পার্কে প্রবেশের সব পথ বন্ধ

# দিল্লি ও আশপাশে ২৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন

ভারতের নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’র প্রস্তাবিত ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে প্রবেশের সবকটি পথ বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পার্কের বাইরের এবং ভেতরের সার্কেলে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, পদযাত্রায় যোগ দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। পরে তেরঙ্গা পদযাত্রার নেতৃত্ব দেওয়ার সময় নেহা বোরাকেও পুলিশ হেফজতে নেওয়া হয়েছে।

সেন্ট্রাল পার্কটিতে শুক্রবার বিকেলে সিজেপি তেরঙ্গা মার্চ বা পতাকা হাতে পদযাত্রা কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় ২৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা জোরদার করতে সেন্ট্রাল পার্ক ও রাজীব চক মেট্রো স্টেশনে নতুন সিসিটিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়।

পুর্বনির্ধারিত পদযাত্রায় অংশ নিতে কনট প্লেসে যাওয়ার পথে দিপকেকে আটক করা হয়। অন্যদিকে, মান্দি হাউস এলাকা থেকে পদযাত্রা শুরুর পরপরই আটক করা হয় এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরাকে।

এর আগে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দিপকেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, কনট প্লেস কোনো অনুমোদিত প্রতিবাদের স্থান নয়। ফলে সেখানে কোনো ধরনের পদযাত্রা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নয়াদিল্লি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার অধীনে জারি থাকা নিষেজ্ঞার কথা জানাতে দিপকের বর্তমান অবস্থানস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। এনসিপি-এসপি মুখপাত্র আনিশ গাভান্দের বাসভবনে অবস্থানরত দিপকেকে আন্দোলন বাতিল করে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানায় পুলিশ। 

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ প্রদান এবং দিপকের কাছ থেকে সম্মতিপত্র নেওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা তার অবস্থানস্থল ত্যাগ করেন। 

এদিকে, নোটিশ দেওয়ার সময় দিপকে ও দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দেখা যায়। সিজেপির সরাসরি লাইভস্ট্রিমে এমনটি দেখা গেছে। ভিডিওতে দিপকেকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করতে দেখা যায় যে, কীভাবে জাতীয় পতাকা উন্মোচন করা বেআইনি হতে পারে। ডিপকে বলেন, ‘আমরা কোনো স্পিকার বসাচ্ছি না কিংবা এটিকে প্রতিবাদ বলছি না; আমরা কেবল জাতীয় পতাকা উন্মোচন করার কথা বলছি। এখন কি সেটাও নিষিদ্ধ?’ 

নোটিশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও প্রশ্ন করেন, ‘তিরঙ্গা কি বেআইনি?’  জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি দেশের গৌরব।’

মূলত প্রতিবাদের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের মর্যাদা বাতিলের পরও গত ১৩ অক্টোবর সেখানে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা উন্মোচন করেন সিজেপির দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। কারারুদ্ধ এই দুই নেতার মুক্তি ও প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিতের দাবিতেই এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির লুটিয়েন্স ও কনট প্লেস এলাকায় ৬ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে দিল্লি পুলিশ। এর পাশাপাশি অন্যান্য জেলা থেকে আরও ৫ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাজীব চক, কনট প্লেস মার্কেট, সেন্ট্রাল পার্ক, নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন, যন্তর মন্তর এবং পালিকা বাজার এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তবে দিল্লিতে কড়াকড়ি থাকলেও মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে সিজেপিকে লেহরা দো তেরঙ্গা পদযাত্রা পালনের অনুমতি দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। কারাবন্দী দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে সংহতি জানাতে সকাল ১০টা থেকে সেখানে এই সমাবেশ আয়োজনের কথা রয়েছে।

লেহরা দো তেরঙ্গা পদযাত্রা: দিল্লির যন্তর মন্তরের নির্ধারিত প্রতিবাদের স্থান বাতিলের পরদিন তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে ঢোকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার সকালে সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন বুধবার আদালত তাদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠান। সেদিনই মহারাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে নামেন অভিজিৎ দিপকে।

সহকর্মীদের গ্রেপ্তার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা নানামুখী অভিযোগের প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে যন্তর মন্তরের মর্যাদা ফেরানোর দাবিতে বুধবার সেন্ট্রাল পার্কে ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ পদযাত্রার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন দিপকে।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সেন্ট্রাল দিল্লি ও কনট প্লেস এলাকায় ৬ হাজারের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করে দিল্লি পুলিশ। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে সুবিধাজনক স্থানে পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন কর্মকর্তারা।

এর আগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির কর্মসূচির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরেই রাজধানীতে প্রায় ২৬ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ফলে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পুরো সেন্ট্রাল দিল্লিজুড়ে মোট নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩২ হাজারে। 

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদের দিনও কনট প্লেস, রাজীব চক, সেন্ট্রাল পার্ক, নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন, যন্তর মন্তর ও পালিকা বাজারসহ পুরো নয়াদিল্লি জেলায় প্রায় ৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছিল।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন