Logo

আন্তর্জাতিক

আমাদের সম্মান না করলে গাজায় নরক ভেঙে পড়বে : ট্রাম্প

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:০৯

অ
আমাদের সম্মান না করলে গাজায় নরক ভেঙে পড়বে : ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বন্দী বিনিময় চুক্তি ভালোভাবে ধরে রাখলেই ভালো হবে বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) এক ফোন সাক্ষাৎকারে সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, 'ওরা যদি আমাদের সম্মান করে, তাহলে সেটা শান্তি বহাল থাকবে। ওরা যদি আমাদের সম্মান না করে, তাহলে সব নরক ভেঙে পড়বে।’

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে চুক্তির সাফল্যের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প জবাব দেন, ‘সব ঠিক আছে, আমরা খুব শীঘ্রই ফলাফল দেখতে যাচ্ছি এবং এটি আরও ভালোভাবে ধরে রাখতে হবে।’

ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বলেছেন, আপনার যা করা দরকার তা চালিয়ে যেতে।

তিনি বলেন, ‘তোমার যা করার তা করতে থাকো। এর অবসান ঘটাতে হবে। আমরা চাই এর অবসান হোক, কিন্তু যা করা দরকার তা চালিয়ে যেতে চাই।’

এসময় নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট চুক্তিটি বহাল রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি 'শ্রদ্ধার' বিষয়টির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘সম্মান। যুক্তরাষ্ট্রকে আবার সম্মানিত হতে হবে এবং দ্রুত সম্মান অর্জন করতে হবে। কিন্তু সম্মান হচ্ছে প্রথম শব্দ যা আমি ব্যবহার করি।’

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান না দেখালে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতে পারে। তারা যদি আমাদের সম্মান করে, তাহলে তা বহাল থাকবে। তারা যদি আমাদের সম্মান না করে, তাহলে সব জাহান্নাম ছড়িয়ে পড়বে।’

এসময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সাথে দ্রুতই বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। যদিও তিনি আসন্ন আলোচনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে অস্বীকার করেছেন।

প্রসঙ্গত, গাজা উপত্যকায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি প্রাণঘাতী হামলার অবসান ঘটাতে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করেছে মধ্যস্ততাকারী দেশ কাতার। রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

তিন ধাপে সম্পন্ন হতে যাওয়া এ চুক্তির প্রথম ধাপে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি থাকবে, গাজার জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে এবং ৩৩ জন জিম্মিকে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি বন্দীর বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হবে।

দ্বিতীয় ধাপে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে।

তৃতীয় এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে কোনও মৃত জিম্মির দেহাবশেষ তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং গাজার জন্য একটি বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনা শুরু হবে।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এছাড়া, গাজায় গণহত্যার জন্য আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও রয়েছে।

এসবি

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন