Logo

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি পাত্তাই দিচ্ছে না তালেবান

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪৪

অ
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি পাত্তাই দিচ্ছে না তালেবান

ফের ‘ফ্ল্যাশপয়েন্ট’ আফগানিস্তান। সেখানকার তালেবান শাসকদের সঙ্গে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করতে চলেছে ওয়াশিংটন- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বারের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নিতে না নিতেই মিলল সেই ইঙ্গিত। কারণ, চেয়ারে বসেই হিন্দুকুশের কোলের দেশটিতে ফেলে আসা হাতিয়ার ফেরত চেয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন জানিয়েছে, ট্রাম্পের দাবি খারিজ করে দিয়েছে কাবুলের তালেবান নেতৃত্ব। শুধু তা-ই নয়, অভ্যন্তরীণ এবং বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় আরও বেশি হাতিয়ারের প্রয়োজন বলে স্পষ্ট করেছেন তারা। পরিস্থিতি দেখে মার্কিন অস্ত্র ‘ফিরে পাওয়াকে’কে একরকম দিবাস্বপ্ন বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞেরা।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি প্রথামাফিক ওয়াশিংটন ডিসিতে শপথ নেন ট্রাম্প। এরপর প্রেসিডেন্টের প্রধান কার্যালয় ওভাল অফিসে চলে যান তিনি। সেখানে সই করেন প্রায় ১০০টি আদেশনামায়। এরপরই আফগানিস্তানকে হাতিয়ার ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে একরকম হুমকি দেন এই বর্ষীয়ান রিপাবলিকান নেতা।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘কাবুলকে আমরা প্রতি বছর লক্ষ-কোটি ডলার আর্থিক সাহায্য দিচ্ছি। তাহলে আফগানিস্তানকে যাবতীয় আমেরিকান সমরাস্ত্র ফেরত দিতে হবে। নইলে আমরা এই আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দেব।’ 

বিশ্লেষকদের দাবি, এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট সেই দেশে ফেলে আসা মার্কিন সেনা-কপ্টার, আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাঁজোয়া গাড়ি ফেরত চেয়েছেন।

অন্যদিকে এই ইস্যুতে মুখে খুলেছেন তালেবান নেতৃত্ব। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কাবুলের এক শীর্ষকর্তা বলেছেন, ‘আমেরিকাকে অস্ত্র ফেরত দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ঘরের মাটিতে ইসলামিক স্টেট-খোরাসানের বিরুদ্ধে আমাদের নিরন্তর লড়াই করে যেতে হচ্ছে। এর জন্য আরও বেশি হাতিয়ার এবং গোলা-বারুদ প্রয়োজন।’

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেলে আসা হাতিয়ার এবং সামরিক সরঞ্জামের বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি ডলার বলে দাবি করেছে ব্লুমবার্গ। তবে এই নিয়ে পেন্টাগনের তরফ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। মূল অস্ত্রের মধ্যে বড় সংখ্যায় রয়েছে অ্যাসল্ট রাইফেল ও তার কার্তুজ, রকেট লঞ্চার, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট, গ্রেনেড এবং মর্টার।

কাবুলের ক্ষমতা তালেবানের হাতে চলে যাওয়াকে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি ইসলামিক স্টেট-খোরাসান (আইএস-কে) নামের আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী। ফলে সেনা প্রত্যাহারের সময় থেকে সুযোগ পেলেই তালেবানের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এই অবস্থায় পাল্টা প্রত্যাঘাত শানাতে হচ্ছে আফগান শাসকদেরও।

গত বছরের (২০২৪) ডিসেম্বর থেকে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে তালেবান। কাবুলের শাসকেরা দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসাবে ‘ডুরান্ড লাইন’কে মান্যতা দিতে নারাজ। তাদের বিরুদ্ধে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে খোলাখুলি সমর্থনের অভিযোগও তুলেছে ইসলামাবাদ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালান রাওয়ালপিন্ডির সেনাকর্তারা। পাল্টা সীমান্তে একাধিক পোস্ট পাক সেনার থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার দাবি করেছে টিটিপি। ডুরান্ড লাইনে যোদ্ধার সংখ্যা বাড়িয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এই পরিস্থিতিতে হিন্দুকুশের কোলের দেশটি আমেরিকাকে হাতিয়ার ফিরিয়ে দেবে, মানতে রাজি নন বিশ্বের তাবড় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, তালেবান অস্ত্র না ফেরালে কাবুলের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়াতে পারেন ট্রাম্প। কিন্তু সে ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে আফগান শাসকদের সম্পর্ক মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলেছে নয়াদিল্লিও। আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্টের আমলে হিন্দুকুশের কোলের দেশটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

বিএইচ/

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন