Logo

আইন ও বিচার

চানখারপুলে ৬ হত্যা

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তার ভাগ্যে কী আছে আজ?

Icon

বাংলাদেশের খবর

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২২

সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তার ভাগ্যে কী আছে আজ?

ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সেই রক্তাক্ত দিনে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির ভাগ্য নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আজ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই বহুল প্রতীক্ষিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এই রায় দেবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য থাকলেও তা প্রস্তুত না হওয়ায় আজকের দিনটি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম মামলা হলেও রায়ের দিক থেকে এটি হবে দ্বিতীয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নামের ছয়জন প্রাণ হারান। এই শোকাবহ ঘটনার পর গত বছরের ২১ এপ্রিল তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের কাছে ৯০ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল-১ এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আসামিদের মধ্যে বর্তমানে চারজন কারাগারে আছেন। তারা হলেন শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আরও চারজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পলাতক অন্য তিনজন হলেন সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

এই বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত ২৬ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। যার মধ্যে প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে বুক ফাটা আর্তনাদ নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিহত শাহরিয়ার আনাসের বাবা শাহরিয়ার খান পলাশ। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আদালতে ১৯টি ভিডিও চিত্র, ১১টি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, অডিও রেকর্ড ও মৃত্যুসনদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দাখিল করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সব আসামির সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা হয়েছে। তবে আসামিপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের বেকসুর খালাস প্রার্থনা করেছেন। এখন সবার দৃষ্টি ট্রাইব্যুনালের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই আট পুলিশ কর্মকর্তার আইনি পরিণতি।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর