সড়ক দখল করে লোড আনলোড আইন না মানার প্রবণতা বাড়ছে
মাসুম আহম্মেদ
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪০
দেশের শহর ও নগরগুলো ক্রমেই জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপে বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা, যা সড়ক ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সড়ক দখল করে অবাধে মালামাল লোড-আনলোড করা। এটি একদিকে যেমন ট্রাফিক ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করছে, অন্যদিকে নগর শৃঙ্খলার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিদিন দেখা যায়, ব্যস্ত সড়কের পাশে কিংবা বাজার এলাকার সামনে বড় বড় ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠানো-নামানো হচ্ছে। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে এই কাজ চলে। ফলে রাস্তার একটি বড় অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং জনজীবনে নেমে আসে চরম ভোগান্তি।
আইনের দৃষ্টিতে এটি একটি অপরাধ। সড়ক পরিবহন আইন এবং ট্রাফিক বিধিমালা অনুযায়ী, সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করা বা অনুমোদন ছাড়া সড়ক দখল করা দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের প্রয়োগে শৈথিল্যের কারণে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়ছে।
এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, শহরের অনেক বাজার বা বাণিজ্যিক এলাকায় পর্যাপ্ত লোডিং-আনলোডিং সুবিধা নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপরই পণ্য নামান। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের নজরদারি অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল। তৃতীয়ত, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে আইনের প্রতি সচেতনতার অভাব রয়েছে।
এই সমস্যার প্রভাব শুধু যানজটেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় রাস্তার ওপর মালামাল ফেলে রাখার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে। রাতের বেলায় আলো কম থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। মোটরসাইকেল বা ছোট গাড়ি অনেক সময় এসব বাধার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এছাড়া পরিবেশগত দিক থেকেও এর প্রভাব রয়েছে। যানজটের কারণে গাড়িগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ইঞ্জিন চালু রাখে, যা বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচও হয়। ফলে এটি পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমত, আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশকে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, নগর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি বড় বাজার বা বাণিজ্যিক এলাকায় নির্দিষ্ট লোডিং-আনলোডিং জোন তৈরি করতে হবে।
তৃতীয়ত, সময়ভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। যেমন- দিনের ব্যস্ত সময়গুলোতে বড় যানবাহন দিয়ে মালামাল ওঠানামা নিষিদ্ধ রাখা যেতে পারে। রাতের নির্দিষ্ট সময়ে এ কাজ করার অনুমতি দেওয়া হলে যানজট অনেকটাই কমবে। চতুর্থত, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তারা যদি নিজেদের সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং নিয়ম মেনে চলার জন্য উৎসাহিত করে, তাহলে সমস্যাটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।
সবশেষে বলতে হয়, সড়ক শুধু যানবাহনের চলাচলের পথ নয়; এটি একটি জনসম্পদ। তাই এর ব্যবহারেও থাকতে হবে দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা।
ভুল সড়কে মালামাল লোড-আনলোডের মতো অনিয়ম যদি বন্ধ করা না যায়, তাহলে নগর জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হবে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এখনই সময় আইনের কঠোর প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়ক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার। তবেই নগর জীবন হবে স্বস্তিদায়ক এবং সড়ক ব্যবস্থাও হবে নিরাপদ ও কার্যকর।
বিকেপি/এমএম

