Logo

জীবনানন্দ

বাংলা সাহিত্যের কালানুক্রমিক ধারার বিবর্তন

Icon

মোহাম্মদ জাফর সাদেক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১৬:৪৭

বাংলা সাহিত্যের কালানুক্রমিক ধারার বিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সাহিত্যের সহস্রাধিক বছরের এই পরিক্রমা নিছক কোনো শব্দবিন্যাসের সুশৃঙ্খল বিন্যাস নয়, বরং এটি একটি নৃ-তাত্ত্বিক জাতিসত্তার আত্মপরিচয় বিনির্মাণের এক অবিরাম ও প্রবহমান মহাকাব্য। এই বিবর্তন কোনো ঋজু বা রৈখিক রেখায় বিবর্তিত হয়নি; বরং বিচিত্র চড়াই-উতরাই, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অভিঘাত এবং সামাজিক বিবর্তনের দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এর উত্তরণ, অবনয়ন এবং পুনরাবিষ্কৃত নবজাগরণ ঘটেছে। সাহিত্যের এই দীর্ঘ ও বন্ধুর যাত্রাপথকে অনুধাবন করতে হলে আমাদের আদি যুগের সেই সিক্ত ও উর্বর পলিমাটি থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের যান্ত্রিক জটিলতা ও অস্তিত্ববাদী সংকট পর্যন্ত প্রতিটি স্তরকে অত্যন্ত নিবিড় ও তাত্ত্বিক অভিনিবেশের সাথে পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক।

বাংলা সাহিত্যের আদি সোপানটি রচিত হয়েছিল পাল শাসনামলের সেই সুদূর অতীতে, যার উজ্জ্বলতম ও প্রামাণ্য নিদর্শন হিসেবে আমরা চর্যাপদকে চিহ্নিত করি। খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কালখণ্ডে রচিত এই পদগুলো বাহ্যত বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের নিগূঢ় সাধনসংগীত হলেও এর রূপক ও প্রতীকের অন্তরালে প্রচ্ছন্ন ছিল তৎকালীন বাংলার নদ-নদী, ডোম-চণ্ডাল আর প্রান্তিক মানুষের আটপৌরে জীবনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এটি ছিল বাংলা ভাষার শৈশবকালীন স্পন্দন, যেখানে ভাষাটি তার আপন অবয়ব ও স্বকীয়তা খুঁজে পাচ্ছিল। এই আদি স্তরে সাহিত্যের যে উত্তরণ ঘটেছিল, তা ছিল মূলত আধ্যাত্মিকতা ও মরমীবাদের এক অপূর্ব ও অনির্বচনীয় সংমিশ্রণ। কিন্তু সেন বংশের শাসনামলে রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা যখন দেশজ ভাষার পরিবর্তে সংস্কৃতের আভিজাত্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন প্রাকৃত তথা বাংলার এই স্বাভাবিক বিকাশ কিছুটা স্তিমিত ও সংকুচিত হয়ে আসে।

এরপর ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি আক্রমণের ফলে বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে এক প্রলয়ংকরী ওলটপালট ঘটে যায়। ১২০৪ থেকে ১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালকে অধিকাংশ সাহিত্য-ঐতিহাসিক ‘অন্ধকার যুগ’ বলে অভিহিত করেন। এই দেড়শো বছর বাংলা সাহিত্যে কোনো উল্লেখযোগ্য সৃজনশীল নিদর্শন দৃষ্টিগোচর হয় না, যা ছিল সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম বড় ধরনের অবনয়ন বা সৃজনশীল স্থবিরতা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বহিঃশক্তির লুণ্ঠন এবং এক নবজাতক শাসনব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নেওয়ার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে সৃজনশীল মানুষ তখন মৌন হয়ে পড়েছিলেন। তবে এই অন্ধকার আসলে ছিল এক মহতী প্রসববেদনার মতো, যা পরবর্তী মধ্যযুগের সুবিশাল ও ঐশ্বর্যমণ্ডিত সাহিত্যভাণ্ডারের পটভূমি নির্মাণ করেছিল।

চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে যখন সুলতানি শাসন থিতু হতে শুরু করে এবং বাংলা ভাষা রাজদরবারে সমাদৃত হয়, তখন থেকেই মধ্যযুগের প্রকৃত ও প্রাঞ্জল উন্মেষ ঘটে। এই পর্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল অনুবাদ সাহিত্যের প্লাবন এবং মঙ্গলকাব্যের আধিপত্য। বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে প্রথম নাটকীয়তা, লিরিকধর্মিতা এবং মানবিক আবেগের বৈপ্লবিক অনুপ্রবেশ ঘটে। দেব-দেবীর আখ্যানের আধ্যাত্মিক আবরণে রাধা-কৃষ্ণের যে প্রেমকাহিনি সেখানে বর্ণিত হয়েছে, তা ছিল মধ্যযুগীয় মানুষের মর্ত্যরে কামনারই এক স্বর্গীয় ও শিল্পিত রূপান্তর।

এরপর মঙ্গলকাব্যগুলোর বিবর্তনের দিকে তাকালে আমরা এক অদ্ভুত ও সাহসী উত্তরণ প্রত্যক্ষ করি। মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল বা ধর্মমঙ্গলের কবিরা যদিও আপাতদৃষ্টিতে দেবীর মাহাত্ম্য কীর্তন করতে চেয়েছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা বর্ণনা করেছেন এই বদ্বীপের প্রতিকূল প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের অপরাজেয় ও অদম্য টিকে থাকার লড়াই। চাঁদ সদাগরের সেই অবিনাশী স্পর্ধা কিংবা কালকেতুর ব্যাধ জীবনÑ সবই ছিল বাঙালির নিজস্ব জীবনসংগ্রাম ও অস্তিত্ববাদের প্রথম কাব্যিক আখ্যান। মধ্যযুগের এই স্বর্ণসময়ে শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাব বাংলা সাহিত্যের গতিপথকে আমূল বদলে দেয়। বৈষ্ণব পদাবলীতে যে ভাববিপ্লব ও গীতিময়তার জোয়ার এলো, তা বাংলা ভাষাকে এক অতুলনীয় কোমলতা ও শাশ্বত মানবিকতা দান করল। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’- চণ্ডীদাসের এই কালজয়ী দর্শন মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক অন্ধকার ভেদ করে এক আলোকবর্তিকা হিসেবে আবিভূত হলো। অন্যদিকে, আরাকান রাজসভার মুসলিম কবিদের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে প্রথম মানবিক প্রণয়োপাখ্যান বা রোমান্টিক মহাকাব্যের সূত্রপাত হয়। আলাওল বা দৌলত কাজীর লেখনীতে সাহিত্য তখন কেবল দেবনির্ভরতা ও অলৌকিকতা কাটিয়ে বিশুদ্ধ ও রক্ত-মাংসের মানবিক অনুভূতির দিকে যাত্রা শুরু করল, যা ছিল এক অসামান্য শৈল্পিক উন্নয়ন।

কিন্তু আঠারো শতকের শেষভাগে এসে বাংলা সাহিত্যে এক ধরনের কৃত্রিমতা, বাগাড়ম্বর এবং অবক্ষয়ের লক্ষণ পরিস্ফুটিত হয়। পলাশীর যুদ্ধের পর রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শক্তির উত্থানে দেশীয় সংস্কৃতি এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পতিত হয়। এই ক্রান্তিলগ্নে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে নাগরিক মার্জিত রুচি ও বিদগ্ধতা থাকলেও তাতে পূর্ববর্তী যুগের সেই আধ্যাত্মিক গভীরতা বা মানবিক আর্তি ছিল অনুপস্থিত। পরবর্তীকালে কবিগান, খেউড় বা শ্লেষাত্মক রচনায় সাহিত্যের যে রূপ আমরা দেখি, তা ছিল মূলত স্থূল আমোদ-প্রমোদ ও মানসিক স্থবিরতার মাধ্যম। ভাষার আভিজাত্য ও গাম্ভীর্য হারিয়ে গিয়ে সেখানে স্থান পেল চটুলতা ও সস্তা মনোরঞ্জন। সাহিত্যের এই অবনয়ন ছিল দীর্ঘ মধ্যযুগের গোধূলি লগ্ন এবং এক আধুনিক যুগের ঊষাকালের সন্ধিক্ষণ।

ঊনবিংশ শতাব্দীর রেনেসাঁ বা নবজাগরণ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক ‘উন্নয়ন’ নিয়ে আসে। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের হাত ধরে যে গদ্যের সূচনা হয়েছিল, তা রাজা রামমোহন রায় আর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ক্লান্তিহীন সাধনায় একটি সুশৃঙ্খল, যুক্তিনির্ভর ও প্রাঞ্জল কাঠামো লাভ করল। বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে যে যতিচিহ্ন, ঝংকার ও স্থিতিস্থাপকতা দিলেন, তাতেই আধুনিক সাহিত্যের সৌধ নির্মিত হলো। মাইকেল মধুসূদন দত্ত এসে ভেঙে চুরমার করলেন হাজার বছরের পয়ারের রক্ষণশীল শিকল। তার ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ আমরা প্রথমবার পেলাম প্রমিথিউসীয় বিদ্রোহী চেতনা আর পাশ্চাত্য ঘরানার মহাকাব্যিক গাম্ভীর্য। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা উপন্যাসকে দান করলেন এক দার্শনিক ও শিল্পিত মর্যাদা, যেখানে বাঙালি পাঠক মহাকাব্যিক পটভূমিতে আধুনিক মনস্তত্ত্বের প্রথম স্বাদ পেল।

আধুনিক যুগের পূর্ণাঙ্গ ও সার্বভৌম সার্থকতা এলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একক ও অমিত সৃজনী প্রতিভার হাত ধরে। তিনি একাই বাংলা সাহিত্যকে কয়েক শতাব্দী এগিয়ে নিয়ে বিশ্বসাহিত্যের সমান্তরালে দাঁড় করালেন। কবিতা, ছোটগল্প, নাটক, গান আর প্রবন্ধ- প্রতিটি শাখায় তিনি এমন এক বিশ্বজনীন ও শাশ্বত মান স্থাপন করলেন, যা ছিল অকল্পনীয়। রবীন্দ্রনাথের উত্তরণ ছিল মূলত চেতনার এক আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক উত্তরণ, যা বাঙালিকে ক্ষুদ্র গণ্ডি থেকে মুক্ত করে বিশ্বমানবের সাথে লীন করে দিয়েছিল। তবে রবীন্দ্রনাথের সেই বিশাল ও বটবৃক্ষতুল্য ছায়াতলে থেকেও তিরিশ দশকের কবিরা- জীবনানন্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু, সুধীন্দ্রনাথ দত্তÑ বাংলা কবিতায় নিয়ে এলেন আধুনিকতার এক নতুন বিচ্ছিন্নতাবোধ, নাগরিক জটিলতা ও পরাবাস্তববাদী চেতনা। তাঁরা সাহিত্যকে কেবল রোমান্টিকতায় আবদ্ধ না রেখে ইউরোপীয় আধুনিকতার নিরিখে নতুন ও বিপন্ন মানুষের আর্তি হিসেবে নির্মাণ করলেন। কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা এবং সাম্যবাদী দর্শন শোষিত ও পরাধীন জাতির ধমনিতে যে অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত করেছিল, তা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অদ্বিতীয় বীরত্বগাথা। নজরুলের এই শাশ্বত প্রতিবাদী স্বর সাহিত্যের অবনয়ন রোধে এক বর্ম হিসেবে কাজ করেছে।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দেশভাগ আর রাজনৈতিক অস্থিরতা বাংলা সাহিত্যকে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করলেও এর শিকড় ও ভাষার মূল চেতনা ছিল অভিন্ন। বাংলাদেশে ১৯৪৭-পরবর্তী সাহিত্য হয়ে উঠল স্বাধিকার আন্দোলন ও আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার প্রধান হাতিয়ার। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ- এই রক্তঝরা ইতিহাস ও ত্যাগের মহিমা বাংলা সাহিত্যে যে দ্রোহ, বীরত্ব আর স্বদেশপ্রেমের সঞ্চার করেছে, তা বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে বিরল। শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ বা সৈয়দ শামসুল হকের লেখনীতে সেই উত্তাল সময়ের আর্তি ও স্বপ্নিল প্রতিচ্ছবি আমরা প্রত্যক্ষ করি।

জহির রায়হানের বাস্তববাদিতা কিংবা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’র মতো মহাকাব্যিক সৃজনে আমাদের মাটির গহিন হাহাকার বিশ্বসাহিত্যের দরবারে সগৌরবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইলিয়াসের লেখনীতে আমরা এমন এক রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক সচেতনতা লক্ষ্য করি যা বাংলা উপন্যাসের ধারাকে আমূল বদলে দিয়েছে।

একবিংশ শতাব্দীর এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে  বাংলা সাহিত্য এখন এক অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় সন্ধিক্ষণে উপনীত। বিশ্বায়নের করাল গ্রাসে ভাষার কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে এবং প্রযুক্তির স্পর্শে সাহিত্যের আঙ্গিক ও অবয়ব বদলে যাচ্ছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মননশীলতার অভাব আর সস্তা জনপ্রিয়তার গড্ডলিকা প্রবাহকে অনেকে অবনয়ন হিসেবে চিহ্নিত করলেও, ইতিহাসের নিরিখে এটি আসলে এক নতুন রূপান্তরের সংকেত। আজ যখন সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মানুষ ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে একে অপরের সাথে একীভূত, তখন বাংলা সাহিত্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রটি ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে মহাকাশমুখী হয়েছে। উত্তর-আধুনিক চিন্তা, জাদুবাস্তবতা এবং প্রান্তিক ও দলিত মানুষের জীবনের নির্মোহ বয়ান এখন আমাদের সাহিত্যের মূল সুর হিসেবে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

সহস্র বছরের এই বিবর্তনে আমরা দেখেছি, যখনই সাহিত্য কোনো সংকটে বা অবক্ষয়ে পতিত হয়েছে, তখনই কোনো না কোনো মহৎ প্রতিভা বা গোষ্ঠী তার হাল ধরে তাকে নতুনের দিকে চালিত করেছে। চর্যাপদের সেই দুর্বোধ্য সংকেত থেকে শুরু করে আজকের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অনুগল্প পর্যন্ত-বাংলা সাহিত্যের এই নিরন্তর উত্তরণ আসলে বাঙালিরই আত্মিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের জীবন্ত ইতিহাস। এই ইতিহাস যেমন পরম গৌরবের, তেমনি তা আমাদের প্রতিনিয়ত এই শিক্ষা দেয় যে, পরিবর্তন ও নবায়নই হচ্ছে জীবনের এবং সাহিত্যের একমাত্র অবিনাশী সত্য। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা মহাজাগতিক চেতনার সাথে সাহিত্যের যে নতুন সংঘাত বা মিলন ঘটবে, বাংলা সাহিত্য তার হাজার বছরের পলিমাটির সৌরভ আর আধুনিক প্রজ্ঞার দীপ্তি নিয়ে সেই অজানার পথেও বীরদর্পে পথ চলবে-এটাই আমাদের সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম উন্নয়ন ও চিরন্তন সম্ভাবনা।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন