Logo

জাতীয়

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বে প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জের মুখে

সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া

সাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৩

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বে প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জের মুখে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গত পাঁচ দিনে ৬৪৫ টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আপিলের উপর শুনানি শুরু হচ্ছে আজ শনিবার। প্রথম দিনে শুনানি হবে এক থেকে ৭০ টি আপিল।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আপিল আবেদনের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা রয়েছেন। আপিলকারীদের বড় একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ইসি সূত্র জানায়, আপিল আবেদনের বেশির ভাগ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে সংসদীয় আসনের মোট ভোটারের এক শতাংশ স্বাক্ষরের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে। আইন অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটারের কমপক্ষে এক শতাংশের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে জমা দিতে হয়।

অন্যদিকে, বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগে। কোথাও কোথাও একই ধরনের দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একই ধরনের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

বিএনপি ও জামায়াত ছাড়াও জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একটি অংশের মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণেও বাতিল হয়েছে।

ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বিষয়ে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি। এ ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাদ পড়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত কারণে মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় একশর কাছাকাছি।

আপিল শুনানির বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, "যারা মনোনয়নের বৈধতা বা বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন। আপিলকারীরা আইন অনুযায়ী ন্যায় বিচার পাবে।আমরা ইনসাফে বিশ্বাসী।বিধিবিধান অনুযায়ী যে ধরনের সিদ্ধান্ত হবে আমরা সে ধরনের সিদ্ধান্ত দিব।আইন সবার জন্য সমান। সবাই মানতে বাধ্য।"

ঋণখেলাপী ও দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসি যেসব বিষয় বিবেচনা নিয়ে থাকে :

ঋণখেলাপীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কয়েকটি সিদ্ধান্তকে বিবেচনায় নিয়ে থাকে। যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য।সিআইবি প্রতিবেদনে যদি কোন প্রার্থী ঋণখেলাপি হিসাবে তালিকাভুক্ত হয় তাহলে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

অন্যটি হলো উচ্চ আদালতের নির্দেশে কেউ যদি ঋণখেলাপি থেকে দায়মুক্ত হন বা স্থিতি দেয়া হয় তাহলে আপিল শুনানিতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন বিবেচনায় নিয়ে থাকে।

তবে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কোনো সদস্যের ঋণখেলাপি হওয়া বা মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে নির্বাচন কমিশন তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে।

অন্যদিকে দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম ভাগের (আইনসভা) ৬৬ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কেউ বিদেশি নাগরিক গ্রহণ করেন কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন তাহলে তিনি সংসদ সদস্য হতে অযোগ্য ঘোষিত হবেন।একই অনুচ্ছেদে আবার বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কোন বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করে এবং পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তি- দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে, বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে; কিংবা অন্য ক্ষেত্রে, পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তিনি বিদেশী রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন বলে গণ্য হবেন না। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও  সাংবিধানিক আইনটি বিবেচনায় রেখে আপিল শুনানি করে থাকে।

বাতিল হওয়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের আপিলের বিষয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন প্রধান ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বিদ্যমান নিয়ম-কানুনে কারসাজি ও হয়রানির সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ের নামে নানা অনিয়ম হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারী ভোটারদের ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তারা আদৌ স্বাক্ষর করেছেন কি না। এতে করে প্রভাব ও চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, এমনকি কাউকে দিয়ে অস্বীকার করানোও সম্ভব হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।

এই পরিস্থিতি এড়াতে আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, এক শতাংশের পরিবর্তে পাঁচশত ভোটারের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হোক, যা ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে জমা দেওয়া যাবে। এতে করে প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ হতো এবং যাচাই প্রক্রিয়াও সহজ ও স্বচ্ছ হতো। দুঃখজনকভাবে নির্বাচন কমিশন এই সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় আরও কিছু সংস্কার গ্রহণ করেনি। এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও বিশ্বাসযোগ্য করা সম্ভব হতো।

ঋণখেলাপিদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রস্তাব করেছিলাম ঋণখেলাপীরা মনোনয়ন জমা দেয়ার ছয় মাসের মধ্যে তাদের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অভ্যাসগত বা বড় ঋণখেলাপি যারা তারা কোনভাবে যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে এটিও আমরা প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের এ প্রস্তাবটিও উপেক্ষা করেছে।

এসআইবি/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন বিএনপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর