ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ঢাকাসহ ৩ জেলায় কাল থেকে মাঠে নামছে বিজিবি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৫
ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই চার্টার গণভোট ২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে রাজধানী ঢাকাসহ তিন জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের ৫ ব্যাটালিয়নের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় সর্বমোট ৩৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় জেলাগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যায় সদস্য ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুইটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে এই বাহিনী।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান জানান, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং হেলিকপ্টার। স্বচ্ছতা ও নজরদারি বাড়াতে এবারই প্রথম বিজিবি সদস্যরা বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি ও আধুনিক সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ব্যাটালিয়ন সদরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়ে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এবার কেন্দ্রের ভেতরে বিজিবির প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো পূর্বনিষেধাজ্ঞা নেই। প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চাইলে কিংবা কোনো কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের আশঙ্কা তৈরি হলে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সরকার, নির্বাচন কমিশন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

