চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ : মায়ের পর প্রাণ গেল ছেলের
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৬
চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ কিশোর শাওন (১৬) মারা গেছেন। এ নিয়ে একই ঘটনায় মায়ের পর ছেলেরও মৃত্যু হলো।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের এমএইচডিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাওনের মৃত্যু হয়।
ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাওনের শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এর আগে সোমবার গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের ঢাকায় আনার পথে মারা যান শাওনের মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ও অন্যান্য দগ্ধদের চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।
যেভাবে ঘটেছিল বিস্ফোরণ
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রামের হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ৬তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এর পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতর আগুন ধরে গেলে বাসিন্দারা শরীরে আগুন নিয়েই একে একে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা সেহরি করছিলেন। এতে একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন।
নিহত মা ও ছেলে ছাড়া দগ্ধ বাকিরা হলেন- রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের পর্তুগালপ্রবাসী ছোট ভাই সামির আহমেদ (৪০), সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।
দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা সবার অবস্থাই ‘আশঙ্কাজনক’ বলে জানিয়েছিলেন। এখন চিকিৎসাধীন থাকা পাখি ও সাখাওয়াতের ত্বকে পোড়ার মাত্রা শতভাগ। এছাড়া শিপনের ৮০, সামিরের ৪৫, আইমানের ৩৮, আনাছের ৩০ ও আয়েশার ৪৫ শতাংশ পুড়েছে।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের (জোন-১) উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে ছিল। চুলার আগুন ধরাতে গিয়ে এ বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।
এমবি

