জাতিসংঘের নির্বাচনে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেবে ওআইসি দেশগুলো
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৯
ছবি : সংগৃহীত
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন ও গাম্বিয়াসহ ওআইসির বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) জরুরি অধিবেশনের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এই আশ্বাস দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ওআইসি প্রতিনিধিদলের নেতারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ওআইসি নেতারা ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারেরও প্রশংসা করেন।
আগামী ২ জুন নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছে সরকার। বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি, তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকিলিকায়া, ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদাও বাংলাদেশের এই প্রার্থিতার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত বছর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বৈঠকের কথা উষ্ণতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে বাংলাদেশ সফরের প্রত্যাশায় রয়েছেন। তুরস্কের উপমন্ত্রী মুসা কুলাকিলিকায়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুবিধাজনক সময়ে শীঘ্রই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি জানান, সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদাও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে সৌদি আরবে গিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার জেদ্দায় ওআইসি সচিবালয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আয়োজিত জরুরি বৈঠকে তিনি অংশ নেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচএস

