Logo

জাতীয়

সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতি করলে শুধু চাকরিই যাবে না, মামলাও হবে : আইনমন্ত্রী

Icon

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৪৬

সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতি করলে শুধু চাকরিই যাবে না, মামলাও হবে : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। ছবি : বাংলাদেশের খবর

কোনো সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতি করলে তার শুধু চাকরিই যাবে না, বরং তার বিরুদ্ধে মামলাও হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কর্মকর্তাদের বলেছি, সরকারি যত বরাদ্দ হবে, সেটা জনগণের জন্য বরাদ্দ হয়। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেওয়া হবে। যদি কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা দুর্নীতির আশ্রয় নেন, শুধু তার চাকরিই যাবে না, তার বিরুদ্ধে মামলাও হবে। কারণ আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি।’

সরকার আইনসঙ্গতভাবে ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটা প্রথম দিনই বলেছি, বাংলাদেশের রক্তের সিঁড়ি বেয়ে ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটানো হয়েছে। সরকার জনমতগুলো দেখছে এবং সরকার আইনসঙ্গতভাবে ফ্যাসিস্টদের বিচার করতে বদ্ধপরিকর।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় মহাসড়কে উঠেছে। সুতরাং আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের সরকার বদ্ধপরিকর এবং সেই পথ ধরেই আমরা হেঁটে যাব।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সাংবিধানিকভাবে যতগুলো অধ্যাদেশ হয়েছে, প্রত্যেকটি অধ্যাদেশই আমরা বিল আকারে পেশ করব। সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রত্যেকটিই পেশ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার জট আমাদের দেশে একটি প্রকট সমস্যা। সেটি নিরসনে যা যা করা প্রয়োজন, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেউ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অপব্যবহার করলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট দেখবেন।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর নরসিংদীর ধর্ষণ মামলায় যারা জড়িত, তাদের যদি কেউ আশ্রয় দেন, তাদের শেকড় ধরে উপড়ে ফেলা হবে। আমি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যতটুকু তৎপর ছিলাম, এখানে (আইনমন্ত্রীর পদে) তার থেকে এক ডিগ্রি বেশি হলেও তৎপরতা দেখতে পাবেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক-সন্ত্রাস, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, হানাহানি-মারামারি— এসব ব্যাপারে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কারণ গুটিকয়েক দুষ্কৃতিকারীর কারণে সরকারের ভালো কাজের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে না।’

এ সময় জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপি সভাপতি এম এ মজিদ, রাশেদ খানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সংসদ সদস্য ও জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। সভায় সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু কবর, মতিয়ার রহমান, আবু তালেবসহ জেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ঢাকা থেকে সড়কপথে শনিবার সকালে ঝিনাইদহে আসেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি দুপুরে শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিএনপির সংবর্ধনা সভায় যোগদান। বিকেলে বাগনি রাধা গোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে এবং সন্ধ্যায় শৈলকুপা দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

এম বুরহান উদ্দীন/এমবি 

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

আইনমন্ত্রী

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর