Logo

জাতীয়

'বিশ্ববাজারে পাটপণ্য ছড়িয়ে দিয়ে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ কাজে লাগান'

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১:৩৮

'বিশ্ববাজারে পাটপণ্য ছড়িয়ে দিয়ে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ কাজে লাগান'

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন সম্ভাবনার সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে ‘জাতীয় পাট দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এই সম্ভাবনার সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।’

পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিন। সাশ্রয়ী মূল্যের পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করুন।’

রাষ্ট্রপ্রধান উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন, আধুনিক, মানসম্মত, নান্দনিক ও ব্যবহার উপযোগী সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পাটখাতে আধুনিক বিজ্ঞান ও লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, পাটজাত পণ্যে নতুন নতুন উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্য আনতে হবে।

তিনি পাটচাষীদের উন্নত প্রযুক্তির উচ্চফলনশীল চাষপদ্ধতি অনুসরণ ও মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনাদের পণ্যের টেকসই মান সংরক্ষণ, নিত্যনতুন ডিজাইন ও ব্যবহার উপযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এই খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি ও পাটপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, বৈচিত্র্য সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান, উচ্চ মূল্য সংযোজন, শিল্পের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং দেশ-বিদেশে বাজার সৃষ্টি ও সম্প্রসারণে পাটচাষী, শ্রমিক, উৎপাদক, শিল্পোদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক ও নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি অংশীজনকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকারের হাত ধরে পাটখাতের সোনালি দিন ফিরবে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটবে।

পাটকে বাংলাদেশের সমাজ-সংস্কৃতির গৌরবের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। পাটখাতের সার্বিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সবাইকে আরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি জানান, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে রুগ্ন ও বন্ধ পার্টিকলসহ বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠান চালু করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, সরকার পাটখাতকে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও আধুনিকীকরণ, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ উদ্ভাবনসহ পাটের বহুমুখী ব্যবহারে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০ দিনের মাথায় কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এতে ১১ লাখের বেশি কৃষক সরাসরি লাভবান হয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে পাটসহ কৃষিখাতে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে এবং উৎপাদন বাড়বে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এ সিদ্ধান্ত ইতিবাচক অবদান রাখবে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথমবার সরকার গঠনের পরও ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল।

‘হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশ গণতন্ত্রের ধারায় ফিরেছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও সমৃদ্ধ হতে হবে। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমান কৃষি ও কৃষকবান্ধব সরকার আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও বীমার সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজারসংক্রান্ত তথ্যসহ কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় জানতে পারবেন।

রাষ্ট্রপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নেওয়া এসব উদ্যোগের ফলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, পাটখাতে সুদিন ফিরে আসবে এবং অবারিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি ‘জাতীয় পাট দিবস–২০২৬’ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে নয় দিনব্যাপী ‘পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা’ ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে পাটখাতে সামগ্রিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং এ খাতে নিয়োজিত অংশীজনকে উৎসাহিত করতে মোট ১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বড় পর্দায় জাতীয় পাট দিবস–২০২৬ উপলক্ষে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সচিব বিলকিস জাহান রিমি, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির এবং বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ)–এর সভাপতি আবুল হোসেন বক্তব্য দেন।

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর