Logo

জাতীয়

বেইলি রোডের বাসা নিয়ে সাবেক প্রেস সচিবের আবেগঘন স্ট্যাটাস

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২:২৪

বেইলি রোডের বাসা নিয়ে সাবেক প্রেস সচিবের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ফাইল ছবি

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেইলি রোডের সরকারি আবাসন ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এ কাটানো সময়ের স্মৃতি মনে করে আবেগঘন ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে তিনি বেইলি রোডকে জীবনের ‘অসাধারণ এক যাত্রার নীরব সাক্ষী’ হিসেবে উল্লেখ করে জায়গাটিকে বিদায় জানান।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে বেইলি রোডে কাটানো দিনগুলো ছিল একদিকে শান্ত, অন্যদিকে অত্যন্ত ঘটনাবহুল। বাইরে থেকে জায়গাটি যতটা নিরিবিলি মনে হতো, বাস্তবে কাছের সরকারি ভবনগুলোকে ঘিরে চলত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার নাটকীয়তা।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমদিকে তিনি শাহীনবাগের বাসায় থাকতেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’-এর সরকারি বাসায় ওঠেন। মূলত প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার কাছাকাছি থাকার সুবিধার জন্যই তিনি সেখানে ওঠেন বলে উল্লেখ করেন। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজও পরিচালিত হতো যমুনা থেকেই, যেখানে অবস্থান করতেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শফিকুল আলম লেখেন, দায়িত্ব পালনকালে অনেক সময় তাকে গভীর রাতে যমুনায় ছুটে যেতে হয়েছে। কখনো কখনো রাতের খাবারও ফেলে যেতে হয়েছে, যাতে চলমান সংকট মোকাবিলার পরিস্থিতি কাছ থেকে দেখা যায় এবং সেই প্রচেষ্টার খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, তার বাসা থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল ফরেন সার্ভিস একাডেমি। দায়িত্ব পালনকালে সেখানে তিনি প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। একই সঙ্গে ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সংলাপেও তিনি অংশ নিয়েছেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠত যে মনে হতো যেন সবকিছুর শেষ এখানেই। আবার অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি ঘুরে গিয়ে বেইলি রোড ফিরে পেত তার স্বাভাবিক শান্ত পরিবেশ।

ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেছেন। বাসার জানালা থেকে ভোরের পাখির ডাক শোনা এবং চারপাশের নিরিবিলি পরিবেশ—এসব মুহূর্ত তার মনে বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছে। তবে গত ১৩ মাসে কাছের রমনা পার্কে নিয়মিত হাঁটা বা সকালের আড্ডায় যোগ দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে রাস্তার পাশে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে স্ত্রীকে নিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার স্মৃতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সেই ছোট ছোট দোকানগুলো উচ্ছেদ করেছে বলেও পোস্টে লিখেছেন।

সবশেষে বেইলি রোডকে উদ্দেশ করে শফিকুল আলম লেখেন, ‘বিদায়, বেইলি রোড। বাইরে থেকে তুমি শান্ত ছিলে, কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী হয়ে থাকবে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান শফিকুল আলম। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে জ্যেষ্ঠ সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আবার সাংবাদিকতায় ফিরে আসেন এবং নতুন ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি ওয়াদা’র সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর