মহাসড়কে শৃঙ্খলা না ফেরালে ঈদযাত্রায় তীব্র যানজটের শঙ্কা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০১:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ গাজীপুর। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এই রুটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। তবে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো না গেলে এবারও ঈদযাত্রায় তীব্র যানজট ও ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক। ঈদের আগে এসব সড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দৌরাত্ম্য, অবৈধ সড়ক দখল, ফুটপাত দখল, মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা কাঁচাবাজার এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড। ফলে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য গাজীপুরের টঙ্গী, চেরাগ আলী, স্টেশন রোড, চান্দনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর, মাওনা ও কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার, চন্দ্রা এলাকা যানজটপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকায় হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে দূরপাল্লার বাসের চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিল্পকারখানাগুলোতে ঈদের ছুটি শুরু হলে শ্রমিকদের ঢল নামে সড়কে। তখন ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ঢাকার লোকাল বাস মহাসড়কে নামলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ফলে চন্দ্রা, চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা এলাকায় প্রায়ই অচলাবস্থা তৈরি হয়। এতে ঢাকা-উত্তরবঙ্গ ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
প্রতিদিনই উত্তরা থেকে টঙ্গীর কলেজ গেট পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফ্লাইওভার ও তার নিচে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ঈদ ঘনিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবছর প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও যানজট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হয় না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ দখল ও পার্কিং উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তবুও মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র গাড়ি থামানো, বাজার বসানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যানবাহন সাধারণত উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া ও টঙ্গী হয়ে চলাচল করে। এর ফলে বিমানবন্দর বিআরটি করিডর, উত্তরা, আব্দুল্লাহপুর ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় প্রায়ই গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
জেলার ভবানীপুর বাজার, হোতাপাড়া, বাঘের বাজার, মাস্টারবাড়ী বাজার, সিডস্টোর বাজার ও ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিকেলের পর মহাসড়কের পাশে কাঁচাবাজার বসার কারণে প্রায়ই যানজট দেখা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট, কাঁচাবাজার, অবৈধ পার্কিং ও ইজিবাইকের আধিক্যের কারণে সারা বছরই যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ঈদের সময় এই ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যাত্রীবাহী বাসচালক মো. মুজিবুর বলেন, “প্রতি ঈদে যাত্রী কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ দোকানপাটের কারণে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয়। এতে দূরপাল্লার বাসগুলো দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।”
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) অমৃত সূত্র ধর জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। টঙ্গী, চেরাগ আলী, কলেজ গেট, বোর্ডবাজার, ভোগড়া ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় যানজট নিরসনে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়কে প্রায় সাড়ে ৩শ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রা শুরু হলে বিআরটি লেনটি ঢাকা থেকে ময়মনসিংহমুখী একমুখী যান চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে, যাতে দ্রুত যানবাহন গাজীপুর পার হতে পারে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরফি উদ্দীন বলেন, রমজানের শুরু থেকেই ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ঈদের সাত দিন আগে থেকে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। ঈদের সময় সড়ক ও মহাসড়কে মোট ৮৪৫ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। বিকল হয়ে পড়া যানবাহন দ্রুত সরিয়ে নিতে রেকার ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি মহাসড়ক ও শপিংমল এলাকায় ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হবে।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরিবহন মালিক-শ্রমিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তা না হলে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আবারও চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারে।
এএস/

