Logo

জাতীয়

সংসদে রাজাকারদের প্রতি শোক প্রস্তাব উত্থাপনের প্রতিবাদে ৪১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৫

সংসদে রাজাকারদের প্রতি শোক প্রস্তাব উত্থাপনের প্রতিবাদে ৪১ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে একাত্তরের ঘাতক-দালাল ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত রাজাকারদের প্রতি শোক প্রস্তাব উত্থাপনের প্রতিবাদে ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন জাতীয় সংসদের নেতা। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে অনেক মুক্তিযোদ্ধা জনপ্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই চিত্র বর্তমান জাতীয় সংসদে নেই। বরং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী ও চিহ্নিত রাজাকারেরা সংসদে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে ভুলণ্ঠিত করেছেন এবং জাতি হিসেবে বিশ্বাসঘাতক কিংবা আত্মভোলা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছেন, যা ইতিহাস সচেতন নাগরিকদের কাছে লজ্জার।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সদ্য শপথ গ্রহণ করা বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আবারও অধিকতর লজ্জাজনক এবং মুক্তিযুদ্ধের জন্য অবমাননাকর ইতিহাস তৈরি হতে দেখা গেছে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকারদের বিষয়ে যে শোক উত্থাপন বা প্রকাশ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ ও জাতীয় সংসদ অর্জিত হয়েছে, সেই সংসদেই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও খুনিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের আত্মত্যাগের চরম অবমাননা। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নক্কারজনক প্রচেষ্টা বলেও মন্তব্য করা হয়। একই সঙ্গে বিবৃতিদাতারা মনে করেন, জুলাই চেতনার নাম করে একাত্তরকে মুছে ফেলার ঘৃণ্য অপচেষ্টা শুরু হয়েছে।

তারা বলেন, রাজাকার, আল-বদর ও মানবতাবিরোধী অপরাধীরা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা রাখে না। এই ধরনের পদক্ষেপ জাতীয় ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়গুলোকে বৈধতা দেওয়ার শামিল এবং এটি প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এই শোক প্রস্তাবের অংশটুকু অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সংসদ বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিতর্কিত পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেওয়া এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, অধ্যাপক আবু ইউসুফ, কবি হেনরী স্বপন, কবি শাহেদ কায়েস, কবি মানিক বৈরাগী, গবেষক ও সাংবাদিক এনায়েত কবীর, কবি রইস মুকুল, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহাদাত রাসএল, লেখক পিযূশ কান্তি বড়ুয়া, কবি সঞ্জীব পুরোহিত, লেখক ও শিক্ষক সঞ্জয় সরকার, কবি ও সাংবাদিক নওশাদ জামিল, গল্পকার প্রসূন তালুকদার, কবি ও গবেষক নিয়াজ আল কাজী, বিজ্ঞান লেখক আব্দুল গাফফার রনি, কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৈরিক, কবি শাফি সমুদ্র, কথাসাহিত্যিক শামস সাইদ, অভিনেতা তমাল মাহবুব, কবি সাফি কামাল রিয়াদ, নারী উদ্যোক্তা ও এক্টিভিস্ট লায়লা নূর, কবি ও সাংবাদিক সৈয়দ শিশির, কবি মাশরুরা লাকী, কবি ও শিক্ষা-উন্নয়ন কর্মী জুটন চন্দ্র দাস, এক্টিভিস্ট ও সমাজ-উন্নয়নকর্মী ঋষভ মজুমদার, শিক্ষক ও সমাজ-উন্নয়নকর্মী রাজু অনার্য, মুক্তিযুদ্ধ-গবেষক নাজনীন সুলতানা, কবি ও প্রাবন্ধিক রুদ্র শায়ক, শিক্ষক ও চলচ্চিত্র-গবেষক মনিস রফিক, সমাজতাত্ত্বিক জ্যাকি ইসলাম, কবি শামীমা সুলতানা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক লিটন ব্যানার্জী, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক দেবব্রত রনি, কবি ও এক্টিভিটিস্ট কুতুব হিলালী, কবি হাসিদা মুন, কবি মাহমুদ নাসির, কবি কাইয়ুম খান, কবি ও সাংবাদিক রাজু আহমেদ মামুন, লেখক ও প্রকাশক আবু সাঈদ, কবি ও প্রকাশক সমা খান এবং কবি ও এক্টিভিস্ট মীর রবি। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন কবি ও এক্টিভিস্ট মীর রবি।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর