দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে: জ্বালানিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৯:৫৬
বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী হলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে কালোবাজারিরা জ্বালানি তেল মজুত করে সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় ৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যে পেট্রোল পাম্পে দিনে এক লরি তেল লাগত। এখন হঠাৎ করে ইরান যুদ্ধের কারণে মানুষ বেশি বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। যার ফলে একটি পেট্রোল পাম্প সারা দিনে যে তেল বিক্রি করতো এখন দুই-তিন ঘণ্টাতেই সেই তেল বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। পেট্রোল পাম্পের যে ধারণক্ষমতা আছে সেটার যদি ব্যবহার বেশি হয়ে যায় তাহলে তো স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তেল সরবরাহ সবসময়ই আছে। তবে হঠাৎ করে তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে দুর্নীতি আছে এবং কালোবাজারি হচ্ছে। সারা দেশেই সেটা ধরা পড়ছে। সারা দেশের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে মনিটরিং করছে। ’
এদিকে, দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। গত বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে এই ডিজেল কেনা হবে।
এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের কাছ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনা হবে। পাশাপাশি সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেডের কাছ থেকে আরও দুই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন হচ্ছে, ফলে লোডশেডিং নেই। প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেছি।
এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামসহ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার: এদিকে, আজ দুপুর ১২টায় যশোরে দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমাদের চাহিদা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন। পেট্রোল-অকটেনের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন। ঈদের আগে গড়ে প্রতিদিন ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টন ডিজেল আমরা সরবরাহ করেছি। বতর্মান সরকার আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জনগণের জ্বালানি চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে পারি, সেটির কাজ শুরু করেছি।’
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগনের কষ্ট লাঘবে সরকার কাজ করছে। বহির্বিশ্বের অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পায়। চতুর্দিক থেকে চাপ থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোন পরিকল্পনা করেনি। জনগণের দুর্ভোগ কোনো কারণে যাতে না বাড়ে, সেটি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সরকার ১৬৭ কোটি টাকা জ্বালানি তেলে ভর্তুকি দিচ্ছে। বিএনপি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা কর্মসূচি চালু করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরে বিভিন্ন সরকার উপকারভোগী ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচনের আগে মানুষের দোরগোড়ায় গিয়েছি। বঞ্চিত মানুষের আকুতি শুনেছি। আমরা চাই যাদের ভাতা প্রাপ্তির হক আছে, তারাই যেন পান। উপকারভোগী বাছাইয়ে যেন রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য না পায়।’
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের কাজ শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু হয়েছে। ধর্মগুরুদের সম্মানী চালু হয়েছে। পয়লা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালু হবে। রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণকে প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের হক আদায় করলে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে আসবে।’
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদ।

