Logo

জাতীয়

চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডে আনা হবে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২১

চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডে আনা হবে

বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে। বর্তমান সরকারের দর্শন হলো ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান। 

সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বুধবারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। সকল উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলায় স্কুল ফিডিং/মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন (ফ্লাটার), পাইথন প্রোগ্রিং এবং এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডে আনার পরিকল্পনা: নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এই দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ দেশের ১০টি জেলা এবং ৩টি সিটি করপোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামীতে দেশের প্রায় চার কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনি এলাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

পর্যটন খাতে নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে: দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত এবং এ খাতের অগ্রগতির লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। বুধবারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে পর্যটন সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেগুলো হলো, ১. পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পর্যটন-বান্ধব নীতি প্রণয়ন; ২. ট্যুর গাইড প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন; ৩. রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার; ৪. কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজমের বিকাশ; ৫. ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশ এবং গ্রাম পর্যটন উন্নয়ন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্বাচনি ইশতেহারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এরইমধ্যে জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

এতে পর্যটন খাত সংশ্লিষ্ট আইন, নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রণয়ন, পর্যটন ক্লাস্টার তৈরি, স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও উপকূলীয় এলাকাভিত্তিক পর্যটনের বিকাশ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার রূপরেখা রয়েছে। সার্বিকভাবে মহাপরিকল্পনায় আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের একটি সমন্বিত উদ্যোগ ও কৌশলগত রূপরেখা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ৩০টির অধিক জেলায় স্বীকৃত ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য রয়েছে। 

সব অঞ্চলে পর্যটনের সুবিধা সম্প্রসারণ ও ভারসাম্যপূর্ণ পর্যটন উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রত্যেকটি জেলার পর্যটন উপযোগিতা বিবেচনা করে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিভিত্তিক পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন