Logo

জাতীয়

এপ্রিলে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কা

পাঁচ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ২১:২১

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, ঘনঘন বজ্রসহ ঝড় এবং উজানের পানির চাপ- সব মিলিয়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত এবং মে মাসজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টির পূর্বাভাস পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, আর সিলেট-সুনামগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলে নতুন করে প্লাবনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য লঘুচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস। যদিও কোথাও কোথাও পানি কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলছে, সামগ্রিকভাবে আবহাওয়ার অস্থিরতা ও ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত দেশের বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এপ্রিলে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি: দেশের সবচেয়ে উষ্ণ মাস এপ্রিল। এ মাসে গড় তাপমাত্রা থাকে ৩৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গত এপ্রিল মাস সর্বোচ্চ ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ছয় ডিগ্রি এবং শূন্য দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থেকেছে।

গত এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ দশমিক সাত শতাংশ বৃষ্টি বেশি হয়েছে। শুধু সিলেটে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৬০৩ মিলিমিটার। একইসঙ্গে স্বাভাবিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে শূন্য দশমিক চার ডিগ্রি বেশি ছিল।

আট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এই বৃষ্টির কারণে এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থেকেছে। মাসে এক দিন মাত্র সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছিল। আর সর্বনিম্ন ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এপ্রিলে গড় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১১৯ মিলিমিটার হলেও বৃষ্টি হয়েছে ১৯৬ মিলিমিটার। এ মাসে গড়ে আট দিন বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে ১১ দিন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

রোববার (৩ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম।

এতে আরও বলা হয়, চলতি মাসে এক থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হবে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এপ্রিলে সিলেটে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ২৯৫ মিলিমিটার হলেও হয়েছে ৬০৩ মিলিমিটার- যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১০৪ দশমিক চার শতাংশ বেশি। একই সময়ে সিলেটে গড়ে ১৩ দিন বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে ২৩ দিন।

ঢাকায় গড় বৃষ্টিপাত ১১৯ মিলিমিটার হলেও হয়েছে ২১৩ মিলিমিটার- যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৯ দশমিক আট শতাংশ বেশি।

চট্টগ্রামে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১২০ মিলিমিটার হলেও বৃষ্টি হয়েছে ১৬৪ মিলিমিটার। স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ বেশি।

রংপুরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১০৯ মিলিমিটার হলেও হয়েছে ২০৫ মিলিমিটার- যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৮৭ দশমিক এক শতাংশ বেশি। এ ছাড়া খুলনায় স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৯ দশমিক তিন শতাংশ, বরিশালে ১৬৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

গত ২৮ এপ্রিল কিশোরগঞ্জের নিকলিতে সর্বোচ্চ ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

অন্যদিকে, রাজশাহীতে স্বাভাবিকের তুলনায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে।

চলতি মাসে সারা দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, এ বছর এপ্রিলে বৃষ্টি ধরন ছিল অস্বাভাবিক। সাধারণ এই সময় উপস্ট্রিমে (ভারতের দিকে) বৃষ্টিপাত বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর ডাউনস্ট্রিমে মানে বাংলাদেশে প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, মে মাসের অন্তত ১০ তারিখ পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। ১০ তারিখের পর থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে একটু করে। তবে ১৫ তারিখের পর তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এটা ছয় থেকে সাত দিন চলতে পারে। মোটামুটিভাবে বলা যায়, এ মাসে তাপমাত্রা মোটামুটি সহনীয় থাকতে পারে।

এদিকে টানা তাপপ্রবাহের পর রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়েছে গত ২৬ এপ্রিল থেকে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এ সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। তবে একটানা বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। আর তাতে অন্তত চলতি সপ্তাহে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা কম।

কোনো এলাকার তাপমাত্রা যদি ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭ দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তবে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ও ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক নয় ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক নয় ডিগ্রি থাকলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

অন্যদিকে সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ‘ভারি বৃষ্টি’ ধরা হয়। আর ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে সেটি ‘অতি ভারি’ বর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঢাকাসহ চার বিভাগে ‘অতি ভারি’ বৃষ্টির শঙ্কা, ঝড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা: দেশের আবহাওয়ায় ফের সক্রিয় হয়েছে বৃষ্টিপাতের ধারা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অংশে মাঝারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের প্রায় সব জেলাতেই ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলা এবং ঢাকা বিভাগের পূর্বাঞ্চলের নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জেও একই ধরনের বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে খুলনা বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, আর বরিশাল বিভাগে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানান, সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে। এর ফলে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকাসহ ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সন্দ্বীপে, আর রাজধানী ঢাকায় হয়েছে ২৮ মিলিমিটার।

সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক দিন দেশের আবহাওয়া থাকবে অস্থির। তাই বিশেষ করে বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়ার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

ভুগাই-কংস নদীর নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ‘উন্নতির আভাস’: ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস না থাকায় নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে।

এর ফলে ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ‘উন্নতি হতে পারে’ বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন রোববার বিকালে বলেন, আমরা দেখেছি যে পানি ধীরগতিতে হলেও কমছে সেখানে। আর বৃষ্টির পূর্বাভাসেও বলছে না যে তেমন একটা বৃষ্টি হতে পারে, এখনো পর্যন্ত তেমন দেখছি না আমরা। আসলে এখন তো প্রাক-মৌসুমি সময়, পূর্বাভাস খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যায়। তো তাতে আমাদের মনে হচ্ছে যে, যদি এরকম পূর্বাভাসই থাকে বৃষ্টির, তাহলে ভুগাই-কংস অববাহিকায় অন্তত পানি খুব বাড়ার কথা না; বরং স্থিতিশীল বা কমার দিকে থাকার কথা। সেই হিসেবে আমরা বলেছিলাম উন্নতি হতে পারে বন্যার।

রোববার বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি নদীর পানি রোববার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

নদীগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদী জগন্নাথপুর পয়েন্টে, নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াজাঞ্জইল পয়েন্টে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে, মগরা নদী নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্টে এবং সুতাং নদী হবিগঞ্জ জেলার সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলোর মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ভুগাই-কংস নদীসমূহের পানি সমতল কিছুটা হ্রাস পেয়েছে এবং ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি এবং অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় মাঝারি-ভারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। এই অঞ্চলে আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

সিলেট, সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়বে: বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল কোথাও কোথাও প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বাউলাই নদী খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে আগামী ২৪ ঘন্টায় প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এতে, নেত্রকোণা জেলার বাউলাই নদী অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

হবিগঞ্জ জেলার কালনি ও সুতাং নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে; আগামী ২৪ ঘন্টায় কালনি নদী প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর প্রবাহিত হতে পারে এবং হবিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি ও মনু নদী আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে; আগামী ২৪ ঘন্টায় জুড়ি নদী প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার উপর প্রবাহিত হতে পারে এবং মনু নদী সর্তকসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।

ফলে মৌলভীবাজার জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রোববার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ৬২ মিলিমিটার ও হবিগঞ্জ জেলার হবিগঞ্জে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর বেসিনের ৩টি জেলার ৫টি নদীর ৬টি স্টেশন প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সুনামগঞ্জ জেলার নলজুর নদীর পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ সেন্টিমিটার ওপরে (জগন্নাথপুর), নেত্রকোনা জেলার ভোগাই-কংশ নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৮৯ সেন্টিমিটার ওপরে (জারিয়াজঞ্জাইল), সোমেশ্বরী নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৬৪ সেন্টিমিটার ওপরে (কলমাকান্দা), মগরা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ৭৪ সেন্টিমিটার ওপরে (নেত্রকোনা) ও মগরা নদী ১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে (আটপাড়া) প্রবাহিত হচ্ছিল।

এছাড়া হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে (সুতাং রেল-ব্রিজ), সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদীগুলোর পানির সমতল ঘণ্টায় ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার হারে অত্যন্ত ধীরগতিতে বাড়ছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন