ঈদে বাড়তে পারে হামের প্রাদুর্ভাব, মায়েদের সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
স্বাস্থ্য ডেস্ক :
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১৮:২৪
সংগৃহীত
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ করে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড় ও অবাধ যাতায়াতের কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত শিশুদের জনসমাগমপূর্ণ স্থানে না নেওয়ার জন্য অভিভাবক, বিশেষ করে মায়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শনিবার (২৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়–এর সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি)–এর পক্ষ থেকে জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং এটি সংস্পর্শ ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যেসব শিশু বর্তমানে হামে আক্রান্ত অথবা সম্প্রতি সুস্থ হয়েছে, তাদের ঈদের সময় ভিড়পূর্ণ স্থান কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না নেওয়ার জন্য তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ জানান।
তিনি আরও বলেন, শুধু টিকা গ্রহণ করলেই শতভাগ নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। ভাইরাসের তীব্রতা বেশি হলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে। তাই সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই বলেও মন্তব্য করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তথ্য উপদেষ্টার তদন্ত কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য এখন মাঠপর্যায়ে শিশুদের জীবন রক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
ঈদের ছুটির সময়ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, হামের রোগী ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের ঈদের ছুটি থাকবে না; সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিগত সরকারের স্বাস্থ্যখাতের সিদ্ধান্তহীনতার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সময়মতো টিকার ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বেসরকারি খাত থেকে সংগ্রহের চেষ্টার কারণে সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আইএফআরসি-এর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ১১ সেট ভেন্টিলেটর, ২৭ সেট নেবুলাইজার, ২৭ সেট অক্সিজেন ফ্লো মিটার এবং ১ লাখ পিস নরমাল স্যালাইন হস্তান্তর করা হয়।
স্বাস্থ্যসামগ্রী গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতি, টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

