এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১৯:৩২
সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার সর্বোচ্চ শাস্তি এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিশু ও নারী নির্যাতনের মতো ঘটনায় বর্তমান সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা দেওয়া হবে।
শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশাল-এর নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও ‘নজরুল পুরস্কার-২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা ভবিষ্যতে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও বিদ্রোহী আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, সে বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও কাজী নজরুল ইসলাম এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয় চেতনা ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক। জাতীয় কবির জন্মদিনে অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করারও আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয়ভাবে ত্রিশালে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করতে পেরে সরকার গর্বিত। তিনি স্মরণ করেন, ১৯১৪ সালে মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহ নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের কাজির শিমলা গ্রামে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিশালের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর, কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

