কর্মব্যস্ত হচ্ছে রাজধানী, সড়কগুলোতে বেড়েছে গাড়ির চাপ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১৬:৩০
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ সোমবার (১ জুন) সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, আদালত এবং ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান খুলেছে। কর্মজীবী মানুষ রাজধানীতে ফিরতে শুরু করায় ঢাকা নগরীর সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ এবং গণপরিবহনের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
রোববার (৩১ মে) থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত ঢাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও প্রবেশপথগুলোতে যানবাহনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর মিরপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলা মোটর, মহাখালী, বিজয় সরণি, ক্ষিলখেতসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। বাস, মিনিবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করলেও স্বাভাবিক কর্মদিবসের তুলনায় সড়ক এখনো অনেকটাই ফাঁকা। বিভিন্ন মোড়ে যানবাহন থামতে হলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। কোথাও উল্লেখযোগ্য যানজট চোখে পড়েনি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রী ছাউনিতেও মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। অনেক বাস তুলনামূলক কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষ এখনো পুরোপুরি ঢাকায় ফেরেনি।
গাবতলী-ডেমরা রুটে চলচলকারী বাসের হেলপাররা জানান, ঈদের ছুটির শুরু থেকে যাত্রীসংখ্যা এখনো অনেক কম। তবে আজ অফিস খোলা থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় সড়কে গাড়ির সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে।
বাড্ডা রুটে চলা ভিক্টর ক্লাসিক বাসের চালকের সহকারী সোহেল বলেন, ঈদের আগে যেমন ভিড় থাকে এখনো সেই অবস্থা হয়নি। আজ অফিস খোলার কারণে কিছুটা চাপ বেড়েছে। তবে অনেক সিট খালি নিয়েই গাড়ি চালাতে হচ্ছে। মনে হয় আরও কয়েকদিন লাগবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে।
মহাখালী এলাকায় একটি বাসের চালাক রফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় গাড়ি বেড়েছে, কিন্তু যাত্রী সেই তুলনায় বাড়েনি। অনেক মানুষ এখনো গ্রামের বাড়িতে আছেন। আজও বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে যাত্রী আরও বাড়বে।
ফার্মগেটে অপেক্ষমাণ ভিআইপি ২৭ পরিবহনের সুপারভাইজার জসিম উদ্দিন বলেন, গত তিন-চার দিনের তুলনায় আজ সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি। তবে ঢাকার আসল চেহারা এখনো দেখা যায়নি। স্কুল-কলেজসহ সব কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে তখন ব্যস্ততা আরও বাড়বে।
এদিকে অফিসে যোগ দিতে আসা কয়েকজন চাকরিজীবীরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরলেও রাজধানী এখনো কিছুটা ফাঁকা লাগছে। অনেক সহকর্মী ছুটি বাড়িয়ে নিয়েছেন। ফলে কর্মস্থল ও সড়ক দুই জায়গাতেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি কম।
অন্যদিকে সরকারি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়েও ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। সকালে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিও অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি দেখা গেছে। ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ দপ্তরে যোগ দিয়ে জমে থাকা ফাইল নিষ্পত্তি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেন।
সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ছুটির কারণে কিছু নথি ও প্রশাসনিক কাজের জট তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এসব কাজ স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি নতুন অর্থবছরের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও বৈঠক শুরু হয়েছে।
সচিবালয়ের বিভিন্ন ভবন ঘুরে দেখা যায়, ছুটির আমেজ কাটিয়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগাভাগিতে সময় কাটান।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে কেন্দ্র পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজধানী ছেড়েছেন লাখো মানুষ।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি নির্ধারিত ছিল। এ ছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৫ মে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সব মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

