Logo

জাতীয়

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশইন’ উত্তেজনা

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ২২:৫৯

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশইন’ উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ ইস্যু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে বাংলা ভাষাভাষী নারী, পুরুষ ও শিশুকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ পরিচয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।

সর্বশেষ যশোরের বেনাপোল সীমান্তে ১০ নারী, পুরুষ ও শিশুকে রোববার গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রতিহত করে। তারা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। এর আগে সাতক্ষীরা, মৌলভীবাজার, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।

ক্রমবর্ধমান এই পরিস্থিতিতে বিজিবি কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাহিনীটি স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম ও নির্ধারিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে গ্রহণ করা হবে না। একই অবস্থান ব্যক্ত করেছে সরকারও। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ সব ধরনের অবৈধ পুশইন ও পুশব্যাকের বিপক্ষে। 

অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, ‘পুশইন’ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি এখন আর কেবল সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি নাগরিকত্ব নির্ধারণ, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া সীমান্তে মানুষকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি ও স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকটের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে নতুন ধরনের কূটনৈতিক অস্বস্তিরও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনার স্বীকৃত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। তবে গত এক মাসে আবারও ভারতের বিএসএফের বিরুদ্ধে অবৈধ প্রক্রিয়ায় পুশইনের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) জানিয়েছে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ও চেকপোস্টভিত্তিক আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না। ফলে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড বা জিরো লাইনে আটকে পড়েছে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন।

এক মাসে একাধিক সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ: মে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে কথিত ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ পরিচয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। যদিও মে মাসে মোট কতজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে বা কতজনকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে- সে বিষয়ে বিজিবি বা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা এখন পর্যন্ত সমন্বিত পরিসংখ্যান বা সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি।

ঈদুল আজহার আগে ২৪ মে থেকে সাতক্ষীরার বিভিন্ন সীমান্তে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

এর আগে ২৭ মে সাতক্ষীরার কুশখালি সীমান্ত দিয়ে ২৩ জনকে পুশইনের অভিযোগ ওঠে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। একই সময়ে ধলই সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

মে মাসের শেষদিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তে পুশইনের চেষ্টাকালে ১০ জনকে আটক করে বিজিবি। এছাড়া মেহেরপুর, যশোর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায়ও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

সীমান্তে নজরদারি জোরদার: ক্রমবর্ধমান পুশইন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার ও কূটনৈতিক প্রশ্ন: ভারত থেকে মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটনাগুলোর সংখ্যা এবং বিস্তৃতি বাড়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মানবাধিকারকর্মী ও সীমান্ত বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করে তাকে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতি ও স্বীকৃত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে সীমান্ত এলাকায় মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তি বাড়তে পারে।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানিয়েছেন, বিএসএফের মাধ্যমে সীমান্তে নিয়ে আসা ১০ জন এখনো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থান করছে। বিষয়টি সমাধানে বিএসএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিজিবি সদর দফতরের উপ-মহাপরিচালক (ডিডিজি) ও বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, অবৈধভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কাউকে বিজিবি গ্রহণ করবে না। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করা হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে নির্ধারিত চেকপোস্টের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। পুশইনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে দায়িত্বে থাকা অনেক সদস্যের ছুটিও সীমিত করা হয়েছিল।

অবৈধ পুশইন ও পুশব্যাকের বিপক্ষে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সীমান্তে সব ধরনের অবৈধ পুশইন ও পুশব্যাকের বিপক্ষে থাকার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ব্যাপক পুশইন শুরু হয়েছে, বিষয়টি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা এগুলো শুনতে পাচ্ছি। বর্ডারে আমাদের বিজিবি অ্যালার্ট আছে। আমরা যে কোনো রকমের ইলিগাল পুশইন বা পুশব্যাকের বিপক্ষে। তবে যদি বাংলাদেশের কোনো সিটিজেন কোনো কারণে সেই দেশে গিয়ে থাকে, তাদের যদি ন্যাশনাল আইডি ভেরিফিকেশন করা হয়, আমরা এটাকে বলি ন্যাশনাল আইডি ভেরিফিকেশন। যদি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সেরকম কোনো তালিকা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে, তারা সেটা আইনানুগভাবে রিপ্যাট্রিয়েশন প্রসেসটা ফলো করবে। সে রকম কোনো বিষয় আমাদের কাছে এখনো পেন্ডিং নেই।

অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে হত্যাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না: সীমান্তে অপরাধে জড়িত ও অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে হত্যাকে ‘বর্ডার কিলিং’ বলা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

আগামী বিএসএফ ও বিজিবির ডিজি পর্যায়ের বৈঠকে কোন কোন বিষয় তুলে ধরবেনÑ জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজি পর্যায়ের যে মিটিংটা হবে, সেটা আমাদের সব সময়ের রেগুলার ফাংশন, প্রতিবছরই হয়। একবার এই সাইডে হয়, আরেকবার ওই সাইডে হয়। এক্ষেত্রে বর্ডারের ইস্যুগুলো এড্রেস করা হবে, উভয় পক্ষের কী কী সমস্যা আছে এবং সমস্যাগুলো কীভাবে হয় সেসব বিষয়ে কথা হবে। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় উত্থাপিত হবে।

সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং (সীমান্ত হত্যা) বলছেন, সে সম্পর্কে যদি বিস্তারিত জানেন তাহলে খুশি হবো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি অন্য দেশের বাহিনী আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে কিলিং করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের সীমানার অভ্যন্তরে এবং তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনো রকমের কোনো অপরাধে কেউ জড়িত থাকে, যদি কেউ ইললিগ্যাল ট্রেসপাস (অনুপ্রবেশ) করে যায়, সেটা তারা (সীমান্তরক্ষী বাহিনী) কীভাবে অ্যাড্রেস করবে তা তাদের দেশীয় আইনের ওপর নির্ভর করে। এটাকে বর্ডার কিলিং বলা ঠিক হবে না।

সীমান্ত সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে এবার যে বৈঠক হবে, সেখানে সীমান্ত বিষয়ে আলোচনা হবে, উভয়পক্ষের কী কী সমস্যা আছে। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় উত্থাপিত হবে। এটা রেগুলার ইস্যু।

দ্বিতীয় দিনের মতো সীমান্তের শূন্যরেখায় ১০ নারী-পুরুষ-শিশু: যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো (পুশইন) ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত। সোমবার সন্ধ্যায় বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা সেখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। আতঙ্ক আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

এর আগে, রোববার দিবাগত গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। বিজিবি ঘটনাটি জানতে পেরে প্রতিহত করে।

জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকে অতিরিক্ত ফোর্সসহ আনুমানিক ১২০ জনকে ঠেলে পাঠানোর জন্য সীমান্তে আনে বিএসএফ। কয়েকটি গ্রুপ করে ১০-১২ জন মানুষকে সীমান্তে নিয়ে আসে বিএসএফ। প্রথমে তারা যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির বাধার মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রোববার রাতভর আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদের ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে তাও ব্যর্থ হয়। যে গেট দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে সেখানকার সীমান্তের সার্চলাইটগুলো বন্ধ করে দেয় বিএসএফ। এদিকে টহল দলের বিজিবি সদস্যরা সতর্ক থাকায় সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরে রাত ৩টার দিকে গেটের এপারে ঠেলে পাঠালেও ওই ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু ভারতের ভূখণ্ডে একটি গাছের নিচে অবস্থান করছে।

এদিকে, এ ঘটনার পর বেনাপোলসহ আশপাশের সীমান্তে বিজিবি জনবল ও সতর্কতা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। জনসচেতনতা বাড়াতে সীমান্তের গ্রামগুলোতে মাইকিং করতে শোনা গেছে।

‘পুশইন’ কোনোভাবে মানা হবে না-শামা ওবায়েদ: ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া প্রতিহত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বাংলাদেশের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে ভারতের দিক থেকে যে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, বাস্তবে সেটির প্রতিফলন দেখতে চাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুশইন নিয়ে এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ওনাদের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পরে, নতুন সরকার আসার পরে যতবার ভারতের সাথে আমাদের কথা হয়েছে, তারা ইতিবাচক কথা বলেছে যে, পুশইন তারা করবে না এবং অন্যান্য যেসব জটিলতা তাদের সাথে আমাদের হচ্ছে, ভিসাসহ অন্যান্য ব্যাপারে, তারা ইতিবাচকদের সাড়া দিয়েছে। তো, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আশা করব যে ভারত সরকার এ ব্যাপারে পজিটিভ ভূমিকা রাখবে এবং যেই প্যারাডাইম শিফটের কথা আমরা শুনছি যে, তারা তাদের ফরেন পলিসি বাংলাদেশের ব্যাপারে কী রকম হবে, সেটা তারা সিদ্ধান্ত নেবে। সে সিদ্ধান্তটা যেন ইতিবাচক হয়, সেটা আমরা আশা করব।

শামা ওবায়েদ বলেন, যদি সেটা ইতিবাচক না হয়, সেটা তো অবশ্যই তাদের সাথে পলিটিক্যাল পর্যায়ে, ডিপ্লোমেটিক পর্যায়ে কথা বলব, কথা বলে সেটা সমাধান করার চেষ্টা করব। কিন্তু কোনোভাবেই এটা আমরা মেনে নিব না যে, পুশ ইন করবে।

আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পুশইনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, দিল্লিতে বৈঠক হওয়ার কথা আছে অফিশিয়ালি। সেটা আলোচিত হবে এবং সেটা একটা সমাধানের দিকে যাবে। আমরা আশা করি যে, বিজিবি খুবই শক্ত অবস্থানে থাকবে। বাংলাদেশের সরকারের অবস্থান ওনারা তুলে ধরবেন এবং এটি একটি সমাধানের দিকে যাবে এবং সীমান্তে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করবে।

সম্প্রতি পুশইন ঠেকাতে বিজিবির উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আরেক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পুশইনের প্রচেষ্টা ঠেকাতে তিন-চার স্থানে ‘বিজিবি খুব শক্ত ভূমিকার’ কথা শুনেছেন তিনি। এবং তারা সেটা প্রতিহত করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘অবৈধ নাগরিক’ হিসাবে ২ হাজার ৬৮০ জনের তালিকা বাংলাদেশের কাছে ‘ভেরিফিকেশনের’ জন্য দিয়েছে ভারত সরকার। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ‘ভেরিফিকেশন’ প্রক্রিয়া ঝুলে আসছে বাংলাদেশ সরকারের তরফে।

এ প্রসঙ্গ টেনে করা এক প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের কাছে কোনো তালিকার বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার জানা নেই। তবে যদি তালিকা থাকে নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেটা দেখছে। কিন্তু তালিকা থাকলেতো সেটা আমরা অবশ্যই যাচাই-বাছাই করব এবং সে তালিকা বিজিবির হাতেও থাকার কথা, তাই না? যেহেতু ওনারা বর্ডারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন। সুতরাং, সে তালিকা যদি থেকে থাকে তাহলে তালিকা ওনারা যাচাই-বাছাই করবেন।

বাংলাদেশের দিকে পুশইন বন্ধ করতে ভারত সরকারকে সম্প্রতি চিঠি দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতো আমরা দিয়েছি, এখানে তো উত্তর হল, বন্ধ করা। উত্তর হল বন্ধ করা।

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে সীমান্তে অস্থিরতার শঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে শামা ওবায়েদ বলেন, আমি একটু আগেই বলেছি যে, আগামী সপ্তাহে বিজিবি-বিএসএফ এর বৈঠক আছে, ওখানে এগুলো আলোচনা হবে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন