বিশ্বের ১৪০ দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১৭:৪৬
সংগৃহীত
বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। বর্তমানে দেশের উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, দেশিয়ভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হলে এই রপ্তানি বাজার আরও বিস্তৃত হবে।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ওষুধ শিল্প ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ১৪০টি দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশিয় উদ্যোক্তারা যদি ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষম হন, তাহলে রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ছিল। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভেন্টিলেটর, মেশিন কিংবা সিরিঞ্জের সংকটও মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় সরকার বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করেছে।
হামের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, হামের বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি হতে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার
আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমকে সামনে রেখে চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) সরকারের কাছে অনুদান হিসেবে এক লাখ আইভি স্যালাইন দিয়েছে।
তার ভাষ্য, বর্তমানে কেন্দ্রীয় মজুদে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এক লাখ স্যালাইন রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন সংরক্ষিত আছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত স্যালাইনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে সমন্বিত উদ্যোগ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সরকার স্বাস্থ্যখাতের সব অংশীজনকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধ শিল্পের বিকাশে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ওষুধ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। মানুষের দোরগোড়ায় সঠিক ওষুধ সাশ্রয়ী মূল্যে কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

