৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১৮:৪৩
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের কর-জিডিপি (Tax-to-GDP) অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের নবম দিনে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত না থাকায় তার লিখিত উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।
প্রশ্নে সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৩ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী নেপালে এ হার প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের নিম্ন কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি (এমএলটিআরএস) গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি রাজস্ব বিভাগের এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ, অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব ব্যয় হ্রাস, কর আইন সরলীকরণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কর ঝুঁকি নির্ধারণ এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, করদাতাদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। কর আইন প্রতিপালনে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক-২০২৬’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর অব্যাহতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, মামলা ও বকেয়া আদায়, নিলাম, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিস্পন্ন চালান এবং ডিফার্ড পেমেন্টসহ বিভিন্ন খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
এ ছাড়া ‘ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি-২০২৩’ এবং ‘কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪-২০২৮’ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করি, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে এ হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে স্ট্রেংথেনিং ডোমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট বাস্তবায়ন এবং কর অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

