আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:০৯
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ২৩ জুন। বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার প্রবেশপথসহ রাজধানীজুড়ে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছয় জেলায় (ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রাম) আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি জেলায় সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিষিদ্ধ এই সংগঠনের সম্ভাব্য অপতৎপরতা ও নাশকতা রুখতেই এই আগাম সতর্কতা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ এবং পরবর্তীতে নতুন গঠিত বিএনপি সরকারের আমলে সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী বিলের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় স্থগিত রয়েছে তাদের দলীয় নিবন্ধনও। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলটির নেতাকর্মীরা নতুন করে কিছুটা সরব হওয়ার চেষ্টা করছে। গত দুদিনে ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল ও ‘শপথ’ গ্রহণের ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের আশঙ্কা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে বাধা পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতে পারে দলটির কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু আইনি প্রয়োগ নয়, আওয়ামী লীগের এই উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টাকে রাজনৈতিক কৌশল দিয়েও মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতা রোধে দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী এ ছয় জেলায় মোতায়েন থাকবে। সোমবারের মধ্যেই এ সংক্রান্ত আদেশ জারি হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সারাদেশে মোতায়েন থাকা সেনাবাহিনী চলতি বছরের ৬ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার শুরু করে সরকার।
পরে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এমতাবস্থায় ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয় চিঠিতে।
পাঁচ জেলায় বিজিবি: পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করেছে সরকার। কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজারে ৩০ জুন পর্যন্ত বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। অন্যান্য জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক মোতায়েনের জন্য বিজিবি সদস্যরা ‘স্ট্যান্ডবাই’ থাকবেন বলেও জানানো হয়।
ঢাকায় মোতায়েন ১৮ হাজার পুলিশ: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ২৩ জুন রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। গত রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি জানায়, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ২০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। একই সঙ্গে ঢাকার সব প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে, যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা না যায়। নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট মাঠে সক্রিয় থাকবে। এ ছাড়া সাদাপোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আইএডি) গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহানগরের বিভিন্ন স্থানে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হবে। পাশাপাশি চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য প্রস্তুত থাকবে।
নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকিতে ডিএমপি কমিশনারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে জুন মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ডিএমপি জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে রাজনৈতিক মামলায় ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে ২৮ জন, চুরির ঘটনায় ১২১ জন, দস্যুতা-সংক্রান্ত ঘটনায় ১১৩ জন এবং ডাকাতি-সংক্রান্ত ঘটনায় ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিএমপির বিভিন্ন থানা, ডিবি ও সিটিটিসি ইউনিটের অভিযানে জুন মাসে এ পর্যন্ত ৫৫ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অপতৎপরতা ঠেকাতেই সেনা মোতায়েন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে তৎপরতা রুখতেই ছয় জেলায় সেনা মোতায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব জেলায় সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সচিবালয়ে সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসকক্ষের সামনে এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগের তুলনায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার, এতে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।’
ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জেলায় অপতৎপরতা চালাতে পারে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শক্তি বাড়াতে হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।’
তবে দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়নি বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে।
আওয়ামী লীগ নামে কোনো সংগঠন নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কিছু বলবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নামে কোনো সংগঠন নেই।’ তাই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ উল্লেখ করার কথা জানান তিনি।
কী করতে পারে আওয়ামী লীগ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১১ মে ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।
নির্বাচনের বিএনপি জয়লাভের পরদিনই বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনসহ কিছু কার্যক্রমও চালাতে দেখা গিয়েছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলটির নেতাকর্মীদের।
দলটির নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মনে করেছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে আওয়ামী লীগ হয়তো কিছু কার্যক্রমের সুযোগ পাবে।
কিন্তু নির্বাচনের পর দেখা গেছে, তেমনটা ঘটেনি; বরং বিএনপি সরকারের সময়ে এসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনী বিলও সংসদে পাস হয়ে গেছে।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই আছেন আত্মগোপনে। কেউ কেউ গ্রেপ্তার অবস্থায় কারাগারেও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব দেখা গেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলটির নেতাকর্মীদের। অন্যদিকে, গত কয়েকদিনে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে মুখে মাস্ক পরে ছোট ছোট মিছিলও বের করতে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের।
২৩ জুন মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আসলে কী করতে চায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ, এমন প্রশ্ন ছিল আত্মগোপনে থাকা দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের কাছে। জবাবে তিনি বলে, দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং সেগুলো সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীরা যখনই সক্রিয় হয়েছে তখনই তাদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি মো. কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনে এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল করতে পারে আওয়ামী লীগ।
দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে আওয়ামী লীগের এই কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপর তারা ক্ষুব্ধ হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এ সংক্রান্ত চিঠি তারাও পেয়েছেন।
তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু না, আশুরাও পালিত হবে সামনে (আগামী শুক্রবার)। এই কারণে ঢাকায় যেন কোনো ধরনের কিছু অপ্রীতিকর কিছু না হয় সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে পুলিশ।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে আমাদের রেগুলোর পুলিশি কার্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। বিভিন্ন হোটেল মোটেলে ব্লক রেড হচ্ছে। যারা চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদেরও খোঁজা হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে শুধু নিষেধাজ্ঞা না, ক্ষমতাচ্যুত দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেও দেখা গিয়েছিল।
তবে, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগকে কিছুটা সরব হয়ে ওঠে।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় মিছিল, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ‘শপথ’ নিতে দেখা গেছে দলটির নেতাকর্মীদের।
গত কয়েক দিন আওয়ামী লীগ কর্মী সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন প্রচারণাও চালাতে দেখা গেছে যে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসবে শিগগিরই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও সারাদেশে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো সক্রিয় রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগ তাদের উপস্থিতি জানান দিতে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এটা তাদের রাজনীতিরই অংশ।
তবে, সরকার এই কার্যক্রমকে আইনিভাবে নাকি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি।
অধ্যাপক ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করলে সেটিকে মোকাবিলা করার দুইটি জায়গা রয়েছে। প্রথমত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় যখনই তারা কোনো কর্মসূচি পালন করবে সেটি আইন প্রয়োগ করে সরকার মোকাবিলা করতে পারে। একই সাথে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের এই কার্যক্রমগুলোকে সরকারি দলের মোকাবিলা করতে গেলে তাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গ্রুপের তথ্য ফাঁস হলে সেখানে দেখতে পাই তাদের ক্ষোভ এনসিপির প্রতি। যদি এমন কিছু থাকে তাহলে আমরা আশা করবো সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এমন পরিস্থিতিতে কী মাঠে নেমে আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করবে ছাত্রদের নতুন এই রাজনৈতিক দলটি?
জবাবে এনসিপি নেতা মাহমুদ বলেন, সাধারণত ঢাকার যেই জোনগুলোতে আওয়ামী লীগ নাশকতা করার চেষ্টা করে, সেই জোনগুলোতে এনসিপি নেতাকর্মীরা সজাগ দৃষ্টি রাখবে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরোনো ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হককে দলের যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। তখন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কারাগারে বন্দি। বন্দি অবস্থায় তাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

