শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের তৎপরতায় যাত্রীর লাগেজ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১৭:২৫
ছবি: সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় এক প্রবাসী যাত্রীর হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার করে যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-০২ এলাকায় দায়িত্বরত এপিসি মো. নিজাম উদ্দীনকে প্রবাসী যাত্রী মো. শাহীন মৃধা তার হারিয়ে যাওয়া লাগেজের বিষয়ে অবহিত করেন। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই নিজাম উদ্দীন লাগেজটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেন এবং শিফটে দায়িত্বপ্রাপ্ত থানা প্রশিক্ষক মো. ওয়াসিম মিয়াকে অবহিত করেন।
পরে থানা প্রশিক্ষক মো. ওয়াসিম মিয়ার নির্দেশনায় আনসার সদস্যরা হারানো লাগেজ উদ্ধারের লক্ষ্যে মাইকিং, অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক খোঁজ-খবর শুরু করেন। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে জানা যায়, দুবাই প্রবাসী মো. ঈমান আলী ভুলবশত নিজের লাগেজ বিমানবন্দরে রেখে ওমান প্রবাসী মো. শাহীন মৃধার লাগেজ সঙ্গে নিয়ে চলে যান। এ কারণে শাহীন মৃধা নিজের লাগেজ খুঁজে না পেয়ে আনসার সদস্যদের সহায়তা চান।
এ সময় ক্যানোপি এলাকায় পড়ে থাকা মালিকবিহীন একটি লাগেজের ট্যাগ পরীক্ষা করে নিজাম উদ্দীন একটি মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে দুবাই প্রবাসী মো. ঈমান আলীর সঙ্গে কথা হয় এবং তাকে জানানো হয় যে তার লাগেজটি বিমানবন্দরে পড়ে আছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুনরায় বিমানবন্দরে ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা লাগেজটি যাচাই করে দেখা যায়, সেটি আসলে ওমান প্রবাসী মো. শাহীন মৃধার হারিয়ে যাওয়া লাগেজ। পরে উভয় যাত্রীকে উপস্থিত রেখে লাগেজ দুটির ট্যাগ নম্বর, সঠিক বিবরণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়।
সবশেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উভয় যাত্রীর কাছে তাদের নিজ নিজ লাগেজ হস্তান্তর করা হয়। হারিয়ে যাওয়া লাগেজ ফিরে পেয়ে প্রবাসী যাত্রী শাহীন মৃধা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং দ্রুত ও দায়িত্বশীল সহায়তার জন্য দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কেপিআইভুক্ত এলাকা ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সতর্কতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ ঘটনাটি তাদের জনবান্ধব সেবা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্বশীল কর্মতৎপরতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

