প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গরের বৈঠক
বিনিয়োগে ইতিবাচক বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ২১:১৭
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শনিবার তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গরকে রাষ্ট্রীয় স্মারক উপহার দেন, ছবি: পিএমও
বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। দেশে বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সার্জিও গর। পরে দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়।
বিশেষ দূত সার্জিও গর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দৃঢ় আস্থা আছে। সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) ইতিবাচকভাবে সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যাবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) কার্যক্রম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সার্জিও গর বলেন, আগের দিন তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির পরিদর্শন করেছেন। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া ও তাদের প্রতি মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেন তিনি।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। এ জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আবার চালুর বিষয়েও উভয় পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশে আরও বেশি মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সয়াবিন, তুলা, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের সংরক্ষণাগার নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ কামনা করেন। তার ভাষ্য, এসব খাতে বিনিয়োগ হলে দেশের সরবরাহব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সার্জিও গর বলেন, আইটি খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র প্যাক্স সিলিকা নামে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি উদ্যোগ চালু করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসছেন: মাহ্দী আমিন
আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ ঢাকায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল।
শনিবার বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগ যেন বাড়ে, তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্থানীয় প্রায় ২৫টি শিল্প এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসবেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন ওনাদের সঙ্গে তারা ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সাক্ষাতের বিষয়বস্তু তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরত এসেছে। একটা সুন্দর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বহমান রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী গত প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে নীতিগুলো নিয়েছেন সেটিকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায়, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে সুসম্পর্ক রয়েছে... বহুমাত্রিক এবং বহুপক্ষীয়, সেই সম্পর্কটাকে একটা ‘ডিপ অ্যান্ড ইকোনমিক টাইজের’ মাধ্যমে কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বলেছে, এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, বাণিজ্য বাড়ানো যায়, বাংলাদেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মার্কিন কোম্পানিগুলো কীভাবে ভূমিকা রাখে এবং বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে কীভাবে নীতি সহায়তা দেওয়া যায়-এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি ও আমদানি কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেগুলো নিয়েও যেমন বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তেমনি সামনের দিনগুলোতে মার্কিন বিনিয়োগ যেন বাড়ে, তার একটি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রায় ২৫টি শিল্প এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শীর্ষস্থানীয় প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ বা প্রথম সারির কর্মকর্তা বাংলাদেশে আসবেন।
বাংলাদেশ মার্কিন বিনিয়োগকারী এবং সবার জন্য উন্মুক্ত, এ কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য সবাই যেন এখানে আসেন এবং এদেশ গণতান্ত্রিক যাত্রায় কীভাবে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারছে, সেটি যেন সবাই খুঁজে দেখেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, সেটি একটি ভিন্ন মাত্রায় যাবে এবং তার ওপর ভিত্তি করে আমরা আরো বেশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এখানে আকৃষ্ট করব। বাংলাদেশে ইনশাল্লাহ আরো বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আমাদের যে ‘মাল্টি ফ্যাসিলিটেড অ্যাটাচমেন্ট’ রয়েছে, যে ‘অপরচুনিটি’ রয়েছে, একটা পার্টনারশিপের মাধ্যমে এটাকে ইনশাআল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক এ পথযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে ছিল, বাংলাদেশের সাথে থাকবে, পাশে থাকবে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি যে আস্থা ওনারা প্রদর্শন করেছেন, যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন সেটার জন্য আমরা সাধুবাদ জানাই।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

