সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের ধারাবাহিকতা রক্ষার অঙ্গীকার
আনসার-ভিডিপির জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২৩:৪০
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে বুধবার (৫ আগস্ট) আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। একই সঙ্গে বাহিনীটির সকল রেঞ্জ, জেলা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আনসার, ব্যাটালিয়ন এবং উপজেলা কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সারাদেশে বাহিনীর বিভিন্ন কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী সকল স্তরের সদস্যদের উদ্দেশ্যে পাঠ করে শোনানো হয়।
মাঠপর্যায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে অবস্থিত ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজে রচনা, আবৃত্তি এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আনসার ও ভিডিপি হাসপাতালে রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং বাদ জোহর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও জুলাই যোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। একইসঙ্গে দেশ, জাতি ও বাহিনীর উত্তরোত্তর অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির আশা করা হয়।
বাহিনী প্রধান বলেন, বিভিন্ন স্তরের অনৈতিক চর্চা, অপেশাদারীত্ব ও জবাবহীনতার সংস্কৃতি জনগণের প্রত্যাশা এবং বাস্তবতার মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশ এবং জনগণের সেবাই প্রত্যেক রাজস্বভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রধান কর্তব্য।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল কার্যক্রমে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। সাম্যতা, ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতার নীতির ভিত্তিতে বাহিনীর বিভিন্ন জবাবদিহি ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হয়েছে। যেখানে প্রতিটি সদস্য সম্মিলিত শক্তির অংশ হিসেবে পারস্পরিক সহযোগিতা, জবাবদিহি ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। যার ইতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায়।
মহাপরিচালক আরও বলেন, ধারাবাহিক এই বৈপ্লবিক রূপান্তরের ফলে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সকল নেতিবাচক গোষ্ঠীর প্রতিবন্ধকতা তৈরির প্রচেষ্টা সত্বেও জনগণের আস্থা, বিশ্বাস এবং গৌরবের প্রতীক হিসেবে ক্রমেই আরও সুসংহত অবস্থান অর্জন করছে। তিনি ভবিষ্যতের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈষম্য দূরীকরণ, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্বনির্ভরতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নৈতিকতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের চর্চাই একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র বিনির্মাণের অন্যতম পূর্বশর্ত।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং প্রান্তিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা যথাযথ সংস্কারের ভিত্তিতে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে জনগণের আস্থা অর্জনে যে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন, বাহিনীর মহাপরিচালক ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা, নতুন বাংলাদেশের রূপান্তরের অভিযাত্রা তুলে ধরে নির্মিত আটটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় মহাপরিচালক উপস্থিত সকলকে প্রামাণ্যচিত্রগুলো গভীর মনোযোগসহকারে অনুধাবনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর অন্তর্নিহিত শিক্ষা, মূল্যবোধ ও বার্তা আত্মস্থ করে নৈতিকতা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং জনকল্যাণে নিবেদিত থেকে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর উপমহাপরিচালক, পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যরা।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

