Logo

জাতীয়

বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার কথা জানালেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৮

বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার কথা জানালেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত সাইদানি ম্যাক্স গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পকারখানা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা ও রপ্তানি সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ম্যাক্স গ্রুপের আফা স্প্রিং কারখানা পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রদূতের কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য স্প্রিং উৎপাদনের প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও পণ্যের মান সম্পর্কে তিনি অবহিত হন। পরে তিনি গ্রুপের এসএস পাইপ, ক্রোকারিজ ও নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। বিশেষভাবে পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রদূত সাইদানি বলেন, ম্যাক্স গ্রুপের শিল্পকারখানা ও উৎপাদন সক্ষমতা দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আলজেরিয়া ইস্পাত, প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালে সমৃদ্ধ। এসব কাঁচামাল প্রতিযোগিতামূলক দামে ও মানসম্মতভাবে বাংলাদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পপণ্যের জন্য আলজেরিয়ার বাজারেও রপ্তানি ও বিপণনের সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরকে দ্রুত আলজেরিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে আলজেরিয়ায় ম্যাক্স গ্রুপের নিজস্ব কোম্পানি ও কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে জমি, বিদ্যুৎ, পানি ও কাঁচামালসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা এবং বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থার সুযোগ দেওয়ার কথা জানান রাষ্ট্রদূত।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গে সাইদানি জানান, বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে ইতোমধ্যে ২২টি খসড়া চুক্তি প্রণয়ন করা হয়েছে। এর অধিকাংশই চূড়ান্ত স্বাক্ষরের পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত আলজেরিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামও বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আলজেরিয়া ও বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আলজেরিয়ায় বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে দেশিয় শিল্পে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা। সেই পর্যায় পেরিয়ে এখন দেশিয় শিল্পকে রপ্তানিমুখী করার সময় এসেছে।

তিনি জানান, ম্যাক্স গ্রুপের স্টেইনলেস স্টিলের বিভিন্ন পণ্য ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। জার্মানিতেও কিছু পণ্য বিক্রি হয়েছে। আলজেরিয়া থেকে বেস অয়েল আমদানি করে দেশে লুব্রিকেন্ট উৎপাদনের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টিল, প্রকৌশল, নির্মাণ ও অন্যান্য পণ্য দেশটির বাজারে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন নীতিগত স্থিতিশীলতার অভাবে দেশের রপ্তানি খাত কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। তবে বর্তমান সরকারের রপ্তানি প্রণোদনা ও অন্যান্য উদ্যোগে ব্যবসায়ীরা নতুন করে রপ্তানিতে আগ্রহী হচ্ছেন। রপ্তানি বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল নীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। এতে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন—দুই ক্ষেত্রেই সুফল মিলবে।

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিকভাবে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট বের হলেও শিল্প খাতে তাদের বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসকদের মতো প্রকৌশলীদেরও সনদ পাওয়ার আগে নির্দিষ্ট সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এ লক্ষ্যে ম্যাক্স গ্রুপ প্রতি বছর ৫০ জন প্রকৌশলীকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

তিনি জানান, একসময় ম্যাক্স গ্রুপে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ কাজ করতেন, যার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন ছিলেন গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে কর্মী সংখ্যা কমে ৭ থেকে ৮ হাজারে দাঁড়ালেও ব্যবসা ও সরকারি প্রকল্প বাড়ায় ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান আবারও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, গ্রুপটি সৌরবিদ্যুৎ খাতে, বিশেষ করে রুফটপ সোলার ও সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

দেশিয় বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, দেশিয় উদ্যোক্তারা নতুন করে বিনিয়োগ করলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে ঢাকা শহরের যানজট নিরসন ও অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে দেশে বড় শিল্পগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়াতে হবে। দেশিয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমেই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও উচ্চতায় নেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন