উপকুলীয় অঞ্চলভিত্তিক উপজেলা আনসার উচ্চতর প্রশিক্ষণের সমাপনী
জাতীয় নিরাপত্তায় গণপ্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান মহাপরিচালকের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০:০৭
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের 'পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন'-এর আলোকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপজেলা আনসার উচ্চতর প্রশিক্ষণ-১-এর সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে বুধবার (৪ নভেম্বর)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণপ্রতিরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, আন্তঃবাহিনী সমন্বয়, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্য ভিডিওচিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীকে ক্রেস্ট এবং অন্যান্যদের ডিজিটাল সনদপত্র ও আনসার ব্যাংক শেয়ার সার্টিফিকেট প্রদান করেন আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের আলোকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৬০ লাখ সদস্যকে জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবায় আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রমে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, স্বেচ্ছাসেবা ও আত্মত্যাগের চেতনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে একটি সচেতন, দায়িত্বশীল ও সক্ষম জননিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন যৌথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গেও প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় গৃহীত এ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উপকূলীয় নিরাপত্তা, মৎস্যজীবী ও মাছ ধরার নৌযানের সুরক্ষা, উদ্ধার অভিযান এবং দুর্যোগকালীন ও বিশেষ পরিস্হিতিতে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর সুবৃহৎ স্বেচ্ছাসেবকদের ধাপে ধাপে একই ধারার প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দ্রুত সাড়াদান সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিশেষ এই প্রশিক্ষণের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কারিগরি ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ এবং প্রান্তিক শক্তি লিমিটেডের মাধ্যমে জাপান ও ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে সদস্যদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার, কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল প্রশিক্ষণ সনদ, ডিজিটাল মনিটরিং, মাঠ পর্যায়ে ডিজিটাল ফেসিয়াল এটেনডেন্স সিস্টেম ও সিআরএম ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ কর্মসূচি, সামাজিক সচেতনতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ককে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্য-সদস্যাবৃন্দ।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

