ছবি : এআই দিয়ে তৈরি
আপনারা যারা গরুর মাংস কেনেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখবেন ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিনটা দোকানের ভিতরে থাকে এবং সেটার ওপর অনেক বড় গামলা রাখা থাকে। গামলার গলা এত উঁচু থাকে যে, গামলার ভেতরের কোনায় আগে থেকে কিছু আছে কিনা, সেটা দোকানের বাইরে থেকে বোঝা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এখানে একটা প্রশ্ন থাকে, ১ কেজি বা ২ কেজি বা ৫ কেজি মাংস কেনার জন্য এত বড় গামলার কী আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে? না, নেই। সাধারণত ক্রেতারা তো একসাথে ১ কেজি বা ২ কেজি মাংসই কিনে থাকেন।
অথচ ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিনের উপর যে গামলা রাখা হয়, সেটা ৩০ কেজির উপরে মাংস কিনলে হয়তো প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু ৩০ কেজি বা বেশি মাংসের দরকার হয়তো খুব কমই হয়। যদি ৩০ কেজি বা তার বেশি মাংসের দরকার হয়, সেক্ষেত্রে ক্রেতা নিজেই গরু কিনে জবাই করাবেন। আবার মাংস পরিমাপ করার জন্য বিভিন্ন দোকানে যে ডিজিটাল মেশিন রাখা হয়, সেই মেশিনের ধারণ ক্ষমতা একবারে ৩০ কেজি আছে কিনা, সেটাও কিছু সময় প্রশ্ন সাপেক্ষ। এখানে নিচু গামলা ব্যবহার করা যেত।
এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় গামলা ব্যবহার করা হচ্ছে, এর কারণ কী হতে পারে?
অনেক জায়গায় দেখা গেছে, গামলার ভিতর আগে থেকেই খাবারের অনুপযোগী চর্বি, হাড় বা লেজ রাখা হয়। আর আপনার সামনে যে মাংস কাটা হচ্ছে, সেটা সেই আগে থেকে রাখা অখাদ্য অংশের সাথে মিশিয়ে মাপ দেওয়া হচ্ছে।
এবার একটু হিসাব করুন, এক কেজি মাংসের দাম ৭০০ টাকা। আপনাকে যদি এখন ২৫০ গ্রাম খাবারের অনুপযোগী চর্বি বা ফেলানো হাড় দেওয়া হয়, তাহলে তার দাম দাঁড়ায় কত? আর আপনার সামনে যে মাংস কাটা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে তো চর্বি, হাড় থাকছেই।
যারা বাজারে মাংস কিনতে যান, তাদের জন্য দুটি পরামর্শ—
এক. মাংস কেনার সময় যে ভাবেই হোক, ডিজিটাল মেশিনের উপর রাখা গামলাটি ভালো করে দেখুন। ভেতরে আগে থেকেই চর্বি বা হাড় রাখা আছে কিনা। যদি সম্ভব হয়, ডিজিটাল মেশিন দোকানের ভিতর থেকে বাইরে এনে পরীক্ষা করুন।
দুই. মাংস বিক্রেতা যে খাটিয়ায় মাংস কাটে, সেই খাটিয়ার কোনায় আগে থেকে যদি অপ্রয়োজনীয় চর্বি, হাড় বা লেজ থাকে, সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বলুন। এছাড়া সতর্ক করুন যেন এগুলো আপনার মাংসের সাথে মিশিয়ে না দেয়, কারণ আপনার অজান্তেই ওগুলো অর্থাৎ খাটিয়ার কোনায় রাখা অখাদ্য চর্বি বা হাড় মেশানো হতে পারে।
ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে এই ধরনের দোকান তদারকি করলে এবং অসাধু মাংস বিক্রেতাদের জরিমানা করলে, অনেকাংশেই এই ধরনের প্রতারণা কমে যাবে। আর ক্রেতাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
লেখক : অতিরিক্ত পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক

