Logo

অন্যান্য

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা বাসায় চুরি ঠেকাতে যেসব সতর্কতা জরুরি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:১৮

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা বাসায় চুরি ঠেকাতে যেসব সতর্কতা জরুরি

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে ছুটির আমেজে যখন রাজধানী ঢাকা ফাঁকা হয়ে যায়, ঠিক তখনই সক্রিয় হয়ে ওঠে চোর চক্র। পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি বা ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফাঁকা বাসায় চুরি ও লুটপাটের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে সতর্ক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানায়, প্রতিবছর ঈদের আগে ও পরে তালা ভেঙে, গ্রিল কেটে বা নানা কৌশলে বাসায় ঢুকে চুরির ঘটনা বাড়ে। বিশেষ করে যেসব বাসায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বা আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয় না, সেগুলোই বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চোরেরা সাধারণত আগেই বাসা টার্গেট করে। বাসা কতদিন ফাঁকা থাকবে, সিসিটিভি আছে কি না, দারোয়ান কতটা সতর্ক—এসব তথ্য সংগ্রহ করেই তারা পরিকল্পনা সাজায়। অনেক সময় গৃহকর্মী, ডেলিভারি ম্যান বা অচেনা লোকজনের মাধ্যমেও তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।

এ পরিস্থিতিতে নগরবাসীকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়ার আগে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে। প্রয়োজনে আত্মীয়স্বজন বা থানায় সংরক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া যেতে পারে।

যেসব সতর্কতা জরুরি:

বাসার সব দরজা-জানালা ও গ্রিল ভালোভাবে বন্ধ আছে কি না নিশ্চিত করা

মানসম্মত তালা, অতিরিক্ত লক বা ডিজিটাল লক ব্যবহার

সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা

নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করে যাওয়া

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ পরীক্ষা করা

বাসা ফাঁকা থাকার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করা

মূল্যবান জিনিস ছড়িয়ে না রেখে নিরাপদে সংরক্ষণ করা

পুলিশ আরও জানায়, দীর্ঘ ছুটিতে গেলে বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা আত্মীয়কে জানিয়ে রাখা ভালো, যাতে তারা মাঝে মাঝে বাসার খোঁজ নিতে পারেন। এছাড়া টাইমার লাইট বা স্বয়ংক্রিয় আলো ব্যবহার করলেও বাসা ফাঁকা বোঝা কঠিন হয়।

ঈদের কেনাকাটা ও যাত্রাপথেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে মানিব্যাগ, মোবাইল বা ব্যাগ নিয়ে অসতর্কতা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সামান্য অসতর্কতাই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে—তাই আগে থেকেই প্রস্তুত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর