Logo

রাজনীতি

নির্বাচনী মাঠে টেকা নিয়ে ক্রমেই শঙ্কা বাড়ছে জাপা প্রার্থীদের

Icon

এম. ইসলাম

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৪

নির্বাচনী মাঠে টেকা নিয়ে ক্রমেই শঙ্কা বাড়ছে জাপা প্রার্থীদের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাঠে টিকে থাকা নিয়ে ক্রমেই শঙ্কা বাড়ছে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থীদের। যার নেপথ্যে রয়েছে, জাপাকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগঠনগুলোর নতুন তৎপরতা। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনের বাইরে রাখতে সব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে জুলাই যোদ্ধাদের নামে দুটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা নতুন করে জাপার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে। 

ইতোমধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠন ‘জুলাই ঐক্য’র পক্ষে জাপা প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছে। পাশাপাশি গত সোমবার ও মঙ্গলবার সংগঠনটি জাপাসহ ১৪ দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে দুই দিনের কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।  

এছাড়া গত শনিবার বগুড়ায় জেলা জাপার কার্যালয় দখল করে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণা কেন্দ্র’র সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। 

জিএম কাদের এর নেতৃত্বাধীন জাপার মূল অংশের নেতাদের আশঙ্কা, আগামী ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে দলটির সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের ওপর হামলা হতে পারে। 

দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটেয়ারী দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জাপাকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে যেভাবে মব শুরু হয়েছে তা যদি সরকার ও ইসি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় তাহলে আমাদের নির্বাচনে টিকে থাকা কঠিন হবে। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে জাপার জন্য সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হলে আমাদের অনেক জনপ্রিয় প্রার্থীর ওপর হামলা হতে পারে। যারা জাপাকে হুমকি মনে করছে, তারাই সেটি ঘটাতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকার ব্যবস্থা না নিলে আমরা ভোট বর্জনও করতে পারি।

তবে, জাপার প্রার্থীদের ওপর এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। 

জাপার দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম বলেন, ২৪৪ আসনে জাপা প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাইয়ে ১৭২ জনকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। গত তিনদিনে আপিলে ২৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। অর্থাৎ ১৯৫ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে বৈধ। আপিলে আরো কয়েকজনের মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়া গেলে নির্বাচনে ২০০ জনের কাছাকাছি প্রার্থী ‘লাঙল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকবেন।

জাপা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে বেশ সংশয় থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের ভোট করছেন রংপুর-৩ ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ ও ৫ আসন থেকে ভোট করছেন। 

গত ২৯ আগস্ট জাপা নিষিদ্ধের দাবিতে কর্মসূচি পালনকে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূরুল হক নুরের ওপর হামলার পর দলটি নিষিদ্ধে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল কর্মসূচি পালন করে। দলটিকে ফ্যাসিস্ট এর ‘সহযোগী  ও ভারতপন্থি’ আখ্যা দিয়ে আগে থেকেই নিষিদ্ধের দাবি করে আসছিল দলগুলো।

তবে, বড় দল বিএনপি দলটিকে নিষিদ্ধের সরাসরি পক্ষ না নিয়ে কৌশলগত অবস্থান নেয়। অনেকের ধারণা, জামায়াতকে চাপে রাখার কৌশল এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রশ্নে দলটিকে ভোটের বাইরে রাখার বিপক্ষে বিএনপি। 

এদিকে, গত কয়েকদিন থেকে জাপাকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে জুলাই যোদ্ধাদের সংগঠন ‘জুলাই ঐক্য’ ফের বেশ সক্রিয়। 

জাপার মূল অংশের পাশাপাশি দলটির দলছুট নেতাদের নেতৃত্বে (একাংশ) ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)’ জোটের প্রার্থীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে গত ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট করে ‘জুলাই ঐক্য’। 

১১ জানুয়ারি উচ্চ আদালত এসব প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ এবং এসব প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল প্রশ্নেও রুল জারি করেছেন। 

সোমবার ও মঙ্গলবার সংগঠনটি জাতীয় পার্টি, ১৪ দল ও এনডিএফ জোটের প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি পালন করেছে জুলাই ঐক্য।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ‘মার্চ টু ইসি’ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে সংগঠনটি। আজ বুধবার বিভাগীয় শহরে ‘মার্চ টু বিভাগীয় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়’ কর্মসূচি রয়েছে সংগঠনটির। 

এদিকে, পতিত আওয়ামী লীগের শেষ চার টার্মের শাসনামলের শেষদিন পর্যন্ত সহায়তাকারী জাপার সাংগঠনিক অবস্থা ‘ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে জনপ্রিয়তা কমেছে হতাশাব্যঞ্জক হারে। যার ফলে, রংপুর বিভাগে এখনো ২টি এবং রাজশাহী বিভাগের ১৪টি আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি দলটি। 

এদিকে, সরকার একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখাতে জাপাকে নির্বাচনের বাইরে রাখবে না বলে দলটির কাছে বার্তা রয়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগ এখন সাময়িক নিষিদ্ধ হয়ে নির্বাচনের বাইরে। ফলে, নতুন করে জাপাকে নির্বাচনের বাইরে রাখলে ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশ্নের মুখেও পড়তে পারে সরকার।

বিকেপি/এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

জাতীয় পার্টি সংসদ নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর