রাষ্ট্র সংস্কারে সব ধর্মের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ জরুরি : তারেক রহমান
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪১
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রকে সঠিকভাবে পুনর্গঠন ও মেরামত করতে হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ— আমরা সবাই হাজার বছর ধরে এ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি এবং ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর চারটায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী বেগম আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৫ বছরে এ দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে সেই অধিকার আজ ফিরে এসেছে। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই ভোটাধিকার নির্ভয়ে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ভোটের আগে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রে মেতেছে। তারা নিরীহ মা-বোনদের এনআইডি ও মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করছে এবং প্রবাসীদের ব্যালট দখলের চেষ্টা করছে। তাদের সাথে গত ১৫ বছরের ‘নিশিরাতের ভোট ডাকাতদের’ কোনো পার্থক্য নেই। এরাও ষড়যন্ত্র বা ডাকাতি করে জনগণের রায় ছিনিয়ে নিতে চায়।
জনসভায় ক্ষমতায় গেলে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শুধু গার্মেন্টস শিল্পের ওপর নির্ভর না করে নতুন নতুন শিল্প স্থাপন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার ও যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ আয়ের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
দরিদ্র ও অভাবী পরিবারগুলোর স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। এছাড়া কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশক, ঋণ ও বীমা সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনাও জানান তিনি। একই সাথে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি সুবিধা বাড়াতে দেশব্যাপী পুনরায় ‘খাল খনন’ কর্মসূচি চালুর কথা উল্লেখ করেন। বক্তব্যের শেষে তিনি ধানের শীষ ও খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাত জেলায় নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন তারেক রহমান। বিএনপির মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবির খান রাত সোয়া ৪টায় জানান, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে ১৬ ঘণ্টায় সাতটি সমাবেশ শেষ করে গভীর রাতে গুলশানের বাসায় ফিরেছেন তারেক রহমান।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় শেষ নির্বাচনী সমাবেশটি করেন তারেক রহমান রাত ৪টার কিছু সময় পরে। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারম্যান বাসার উদ্দেশে রওনা হন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিন সিলেট থেকে সমাবেশ শুরু করেন তিনি। ওই দিন বেলা ১২টায় সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান।
পরে, বেলা ৩টায় মৌলভীবাজার, সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় হবিগঞ্জ, রাত সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, রাত সোয়া ১২টায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা, রাত ৩টায় নরসিংদীর পৌর পার্কসংলগ্ন মাঠে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখান থেকে ভোর ৪টা ১৬ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জের একটি মাঠে শেষ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এমএইচএস

