বেকার ভাতা নয়, সম্মানের কাজ হাতে তুলে দিতে চাই : জামায়াত আমির
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৫৮
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : বাংলাদেশের খবর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অনেকেই ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা দিতে চাইছেন। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে কারো হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই না। আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। কাজ করার জন্য শুধু তিনটি শর্ত মেনে নিতে হবে— দুর্নীতি নিজে করবেন না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে বগলের নিচে আশ্রয় দেবেন না। গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। সে বিচারে কেউ রাজনীতিবিদ হিসেবে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন। ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি, যেটা দুর্নীতি আর দুঃশাসনে দেশকে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে— এসব বদলাতে হবে। বৈষম্য বদলাতে হবে।
উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সৎ মায়ের সন্তানের মতো উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে। অথচ এই উত্তরবঙ্গই বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে আগামী দিনে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না আমরা। প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্যে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা হবে।
জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের কোনো কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়ায় আমরা দয়ার পাত্রমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই।
তিনি দাবি করেন, দেশবাসীকে বিপদের সময় ফেলে তারা কোথাও যাননি, ভবিষ্যতেও যাবেন না।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের কোনো জেলাই মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না এবং ঠাকুরগাঁওয়েও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।
অর্থনৈতিক দুর্নীতির অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করা হবে। ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারা মানুষের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতের আমির।
এ সময় তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী— ঠাকুরগাঁও-১ দেলাওয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও-২ মাও. আব্দুল হাকিম, ঠাকুরগাঁও-৩ মিজানুর রহমান মাস্টারকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে বলেন।
আবু সালেহ/এমবি

