Logo

রাজনীতি

সরকারের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৯

সরকারের কথা শুনলে মনে হয় দেশ তেলের ওপর ভাসছে

সরকারের জ্বালানি নীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে।

গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। আমরা এই যাত্রা, কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব ইনশা আল্লাহ। আমরা এগোতে দেব না।’

সোমবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। ‘৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিপ্লবী শপথ বাস্তবায়ন করব জুলাই সনদ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জাগপা।

জামায়াত আমির বলেন, ৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে চব্বিশের বিপ্লবীরা ছুড়ে মেরেছিল বঙ্গোপসাগরে, নালায়, নর্দমায়। এখন কারা নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায়। মনে রাখা দরকার, এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা জেগে উঠলে মাসের পর মাস, বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তাদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদিদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই প্রজন্মের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এখনো স্পষ্ট। বিরোধী দল তাদের সঙ্গে আছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই তার রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে। হ্যাঁ, ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যেতে। কিন্তু কপাল যখন মন্দ, তখন কিন্তু জালে বেঁধে যায়। ঘুঘু তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছ, আবার খাওয়ার চিন্তা কোরো না। এবার এলে ঠিকই তোমার লেজ, ঠিকই তোমার পা, ঠিকই তোমার ডানা অবশ করে দেওয়া হবে।’

এরপর শফিকুর রহমান বলেন, ‘বলবেন যে জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে, তার প্রমাণ কী? ৭০ ভাগ জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে—এটাই তার প্রমাণ। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ছিলাম। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আছি। আমরা দেখিয়ে যাব, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব।’

জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল সংসদ থেকে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বলেন শফিকুর রহমান। গত শনিবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এটা শুরু বলে জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সরকার রিজার্ভ বেশি থাকার দাবি করে প্রকৃত সত্য আড়াল করতে চাইছে। সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে সেই নোটিশ আলোচনাতেই আসতে দেওয়া হয় না বলে তিনি দাবি করেন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, সংসদে সরকারি দল কথা বললে মনে হয় দেশে সোনার নহর বয়ে যাচ্ছে। তবে বিরোধী দল জ্বালানিসংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে নোটিশ আলোচনায় আসতে দেওয়া হয় না। তারা ভয় পায়, এর মাধ্যমে জনগণের কাছে সত্য প্রকাশ পেয়ে যাবে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে এই মৌসুমে খামারিরা হা করে চেয়ে আছেন। তাদের ফসলে সেচ করবেন, কিন্তু পানি নেই। এখন আবার খোলা তেলও দেয় না। কার্ড নিয়ে আসতে বলে। তারা কার্ড আনবেন কীভাবে- এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। দেশ খাদ্যঘাটতিতে পড়বে, বলেন তিনি।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলা করার জন্য শিশুদের স্কুল বন্ধ করে দিয়ে তাদের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, করোনার সময় পড়াশোনা ব্যাহত হয়ে অনেক শিশু ড্রপআউট হয়ে গেছে। অনেকে বিপথে চলে গেছে। এখন আবার যদি একই পথে সরকার হাঁটে, তাহলে জাতিকে অন্ধত্ব ও মূর্খতার চাদরে ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। এটা রুখে দেওয়া হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনজীবী এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে সংস্কার বাস্তবায়ন করার জন্য। তবে সরকার এখন ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না করার চিন্তা করছে। ১২ এপ্রিলের মধ্যে সনদ বাস্তবায়িত না করলে এর পরিণতি ভালো হবে না।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান বলেন, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে অনেকে মন্ত্রী-এমপি হয়ে তাঁদের ভুলে গেছেন। জুলাইয়ে তরুণেরা প্রাণ না দিলে এখনো লন্ডন থেকে অনেককে দল পরিচালনা করতে হতো। জুলাইকে অস্বীকার করলে দেশের মানুষ চব্বিশের মতো আরেকটা গণ-অভ্যুত্থান করবে। সেই অভ্যুত্থানে জাগপা পাশে থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে বলেছিল, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এখন তারা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে দিতে চায়। তারা ৫১ শতাংশ জনসমর্থন পেয়ে ৭০ শতাংশ জনসমর্থনের গণভোট বাতিল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম অলিউল আনোয়ার। আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন