জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মে মাসের শুরুতে আসছে কঠোর কর্মসূচি
এম. ইসলাম
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১২
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের ফলাফল কার্যকরের দাবিতে প্রথম দফার কর্মসূচি পালন শেষে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো এখন দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি পালন করছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত সভা-সমাবেশ, সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনমত তৈরির পরিকল্পনার মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই হার্ড লাইনে কর্মসূচি ঘোষণা করার পরিকল্পনায় এগুচ্ছে বিরোধী দল।
সরকারের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে পারে বিরোধী দল। জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন মনোভাব পাওয়া গেছে।
গতকাল শনিবারও ঢাকায় গণমিছিল করেছে দলটি। আজ রোববারও সারা দেশে দলটি বিভাগীয় শহরে গণমিছিল করবে জোটটি।
জানা গেছে, আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে সংসদের প্রথম অধিবেশন। জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদে প্রতিনিধিত্ব রয়েছে চারটি দলের। যার মধ্যে জামায়াত ছাড়াও রয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিসের অপর অংশের সদস্যরা।
দলগুলোর শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, শুরুতেই গণভোটের রায় বা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে যদি সরকারকে চাপে রাখা না যায় তাহলে ভবিষ্যতে বিরোধী দলের গুরুত্ব কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে তরুণ ও সংস্কারপন্থিদের নিজেদের পক্ষে ধরে রাখার কৌশল হিসেবেও এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে দেশের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ ‘হাঁ’ ভোট দিয়েছে। সেটিকে সরকার ইগনোর করার চেষ্টা করছে। এটি বিরোধী দল কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ইতিমধ্যে আমরা প্রথমদফা কর্মসূচি শেষ করে দ্বিতীয় ধাপে কর্মসূচি পালন করছি। পর্যায়ক্রমে আরো কর্মসূচি আসবে। কোনো আন্দোলনের শুরুতেই শক্ত কর্মসূচি দেওয়া হয় না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের ফল কার্যকর, সংস্কার পরিষদ গঠন, পুলিশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, দুদক কমিশনার নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধন ইস্যুতে ইতোমধ্যে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে সংসদে।
গত সপ্তাহে সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যদিবসগুলোতে উত্তাপ দৃশ্যমান হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই অধ্যাদেশসমূহ বাদ দেওয়ায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে বিরোধী দলগুলোতে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে ১১ দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেন। যে কর্মসূচির মধ্যে ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু করে ২ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ থেকে শুরু করে আরো বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার।
কর্মসূচির মধ্যে গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে পর দলগুলো যৌথভাবে গণমিছিল করেছে। যেখানে বক্তব্যে জোটের শীর্ষ নেতারা হার্ডলাইনে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনের বিরতিতে বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই মুহূর্তে প্রথমেই বিরোধী দল জনভোগান্তিপূর্ণ কোনো কর্মসূচিতে যেতে চায় না। তাদের অনেকের কথায় উঠে এসেছে, সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা রয়েছে সেটি বিরোধী দলের মাথায় রয়েছে।
তারা বুঝেশুনে এগোতে চায়। এই ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সরকারকে চাপে রাখা। পাশাপশি কর্মী ও সংস্কারের পক্ষে সমর্থকদের ধরে রাখা। গত কয়েকদিনে জামায়াত ও এনসিপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে একাধিক সেমিনারও করেছে। তারা জনমত সৃষ্টিতে কাজ করছেন।
জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দৈনিক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সংস্কার প্রশ্নে আমরা কোনো কৌশল নেব না। আমরা স্পষ্টভাবে বলছি, গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা সরকারকে বাধ্য করব জুলাই সনদ বাস্তবায়নে।
এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদ বা সংস্কারকে সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণমানুষের রায় রয়েছে। তাই সংসদের পাশাপাশি আমরা মাঠেও সর্বোচ্চ সক্রিয় থাকব।
এদিকে, সরকার বারবারই চলছে তারা তাদের প্রতিশ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তারপরও এ ইস্যুতে সরকার ইতিবাচক না হলে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথেও সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট। যা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে ধারণা মিলছে।
জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ যেসব অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে তা পাস করতে সরকার আগামী অধিবেশনে সরকারি দল সংসদে বিল উত্থাপন করবে। যদিও আইনগুলো তাদের মতো করে পাস করতে চায়।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

