রমজান অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় মাস। সিয়াম সাধনা, ইবাদত-বন্দেগি, কোরআন তিলাওয়াত এবং দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয়। বিশেষ করে দান-সদকা রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। এর মাধ্যমে দরিদ্র-অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘব হয় এবং সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে ওঠে।
দান-সদকার গুরুত্ব সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি শীষ জন্মায় এবং প্রতিটি শীষে থাকে ১০০ দানা। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন।’ (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৬১)
হাদিসে দান-সদকার গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্টভাবে নবীজি (সা.) বলেন, ‘তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, একটি খেজুর সদকা করে হলেও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪১৭)
দান-সদকা জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। আর আল্লাহর পথে দান করলে তার প্রতিদান বৃদ্ধি পায় অনেক গুণ। রমজান মাসে এই সওয়াব আরও বেশি হয়ে থাকে। নবীজি (সা.) রমজানে বেশি বেশি দান সদকা করতেন।
ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) মানুষের মধ্যে দানশীলতায় সবচেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। তবে রমজান মাসে তিনি আরও অধিক দানশীল হতেন। কারণ জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর রমজান মাসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতেন। তখন নবীজি (সা.) বিক্ষিপ্ত বাতাসের চেয়েও বেশি উদার হয়ে দান করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩০৮)
রমজানে গরিবদের সাহায্য করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ।
রমজানে দান-সদকার অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি মানুষের হৃদয়কে নম্র ও উদার করে, লোভ ও স্বার্থপরতা দূর করে। এছাড়া দান-সদকার মাধ্যমে সমাজে ধনী-গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সমতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, রমজানে দান-সদকা শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং এটি মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এই মাসে সামর্থ অনুযায়ী বেশি বেশি দান-সদকা করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত রমজান মাসে উদারভাবে দান-সদকা করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
লেখক : আলেম, লেখক, সাংবাদিক
বিকেপি/এমবি

