মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের হৃদয়েতের জন্য সময়ে সময়ে প্রেরণ করেছেন অসংখ্য পয়গম্বর। সঠিক দিক-নির্দেশনার জন্য পাঠিয়েছেন ১০৪ টি আসমানি কিতাব। যেখানে রয়েছে সমস্ত আদেশ-নিষেধের একেকটা পাঠ। এই গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআন। এই কিতাবে প্রয়োজনীয় সকল আনুষঙ্গিক নিয়মাবলীর সাথে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন জাতির উত্থান ও পতনের ঘটনা সম্বলিত বিভিন্ন বর্ণনা। যে সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সত্যকে অস্বীকার করে মানুষ শয়তানের পূজা করতে লাগলো, যাদুবিদ্যার চর্চা করতে লাগলো- তখনের পরিস্থিতির ব্যাখ্যা পাওয়া যায় স্বয়ং কোরআনেই।
হারুত মারুত - কোরআনে উল্লেখিত ঐতিহাসিক দুটি চরিত্র। কিন্তু আহলে কিতাবের জীবনব্যবস্থাগুলোতে এগুলো নিয়ে রচিত হয়েছে নানা উপকথা, আদতে যার কোনো ভিত্তি নেই। ইসলামে সরাসরি এ নিয়ে বিস্তারিত না থাকলেও এসব উপকথার গল্প বহু বছর ধরে মুসলিম বিশ্বে প্রচলিত আছে। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। মোট কথা, এগুলো ছিলো ইতিহাসের অমীমাংসিত বিষয়। বিষয়টা সম্পর্কে কোরআনে যতটুকু বলা হয়েছে, এর বাইরে বিশ্বাস স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই।
হারুত মারুত আদৌ ফেরেশতা ছিলেন কিনা; এই নিয়ে মতভেদ আছে। পবিত্র কোরআন অনুযায়ী, হারুত মারুত ছিলেন আল্লাহ কর্তৃক বাবেল শহরের (বর্তমান ইরাক) পাঠানো দুজন ফেরেশতা। সূরা বাকারার ১০২ নং আয়াতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, তারা যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য এসেছিলেন। তারা সাধারণ মানুষকে জাদু শেখানোর আগে সতর্ক করে বলতেন - “আমরা একটি পরীক্ষা মাত্র, তাই কুফরি করো না”। জাদু বিদ্যার বিষয়ে প্রমাণ করতে সূরা নাস তাৎপর্যপূর্ণ প্রমাণ পেশ করে। স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরও যাদুবিদ্যা প্রয়োগ করা হয়েছিল। ইতিহাসে উল্লেখিত আছে, হারুত মারূতের প্রচলিত কাহিনী মিথ্যা ও কল্পিত হওয়ার জন্য কোরআনের আয়াতটিই যথেষ্ট। আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা আছে, সুলাইমানের যুগে শয়তান যে শাস্ত্রের অনুসরণ করত এবং মানুষের পরীক্ষার জন্য আল্লাহ তাআলা বাবেল নগরীতে হারুত ও মারুতের ওপর যা অবতীর্ণ করেছিলেন, ইহুদি জাতি সেই বিষয়টিই অনুসরণ করল। আর সেই শাস্ত্রটা ছিল যাদুবিদ্যা।
এছাড়া এই ভিত্তিতে আরোও সন্নিবেশিত হয়েছে তাওরাত ও বাইবেল গ্রন্থের সার-নির্যাস। মূলত এই বিষয়গুলোই ইহুদিরা বিকৃতরূপে উপস্থাপন করে নিজেদের মতামতের ভিত্তি তৈরি করেছে। যেহেতু এই বিষয়টি ঈমানের মৌলিক কোনো বিষয় নয়, যা প্রত্যক্ষভাবে দ্বীনের হকের সাথে সম্পর্কিত, সেহেতু এ নিয়ে বিভিন্ন উলামায়ে কেরামদের ভিন্নমত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করাই উত্তম। যাদুবিদ্যা সম্পর্কে কোরআনে উল্লেখিত ঘটনাবহুল ইতিহাসকেই আমরা হারুত মারুত সম্পর্কে জানি।
লেখক: শিক্ষার্থী, (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

