সংগৃহীত
কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি ত্যাগ ও তাকওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া হালাল পশু জবেহ করার সময় তাঁর নাম উচ্চারণ করে।” — (সুরা হজ : ৩৪)
আরও ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” — (সুরা হজ : ৩৭)
হাদিস শরিফেও কোরবানির গুরুত্ব ও ফজিলতের কথা উল্লেখ রয়েছে। মুহাম্মদ (সা.) কোরবানিকে ইবরাহিম (আ.)–এর মহান আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কোন পশু কোরবানির জন্য বৈধ
ইসলি শরিয়ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু পশু দিয়েই কোরবানি করা বৈধ। সেগুলো হলো— উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা।
বয়সের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার কমপক্ষে এক বছর বয়স হতে হবে। তবে ছয় মাসের ভেড়া যদি দেখতে এক বছর বয়সী মনে হয়, তাহলে তা দিয়েও কোরবানি করা জায়েজ। গরু ও মহিষের বয়স কমপক্ষে দুই বছর এবং উটের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে।
শিং ভাঙা পশু দিয়ে কোরবানি হবে?
ফেকাহবিদদের মতে, যে পশুর জন্মগতভাবে শিং নেই, তা দিয়ে কোরবানি করা বৈধ। একইভাবে শিংয়ের সামনের অংশ ভেঙে গেলেও সেই পশু কোরবানির উপযুক্ত থাকে।
বর্ণিত আছে, আলী (রা.)–কে শিং ভাঙা পশুর কোরবানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এতে কোনো অসুবিধা নেই।
তবে যদি পশুর শিং এমনভাবে উপড়ে যায় যে তার মগজে ক্ষতি পৌঁছে যায়, তাহলে সেই পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ হবে না। কিন্তু শুধু শিং ভেঙে গেলে বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোরবানি আদায় করা জায়েজ।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

