Logo

ধর্ম

আশুরার রোজা রাখার সঠিক নিয়ম

Icon

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১৭:৩১

আশুরার রোজা রাখার সঠিক নিয়ম

সংগৃহীত

হিজরি বর্ষের সর্বপ্রথম মাস মুহাররম মাস। হাদিসের ভাষায় ‘শাহরুল্লাহ আলমুহাররাম’। মহান আল্লাহ তায়ালা বছরের যে কটি মাসকে বিশেষ মর্যাদায় মহিমান্বিত করেছেন, মুহাররম তার অন্যতম।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ যেদিন আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই মাসসমূহের গণনা আল্লাহ তায়ালার নিকট তাঁর বিধান মতে বারটি। তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। এটাই সহজ-সরল দ্বীন (-এর দাবি), অতএব তোমরা এ দিনগুলোতে নিজের ওপর জুলুম করো না।’ (সুরা তাওবা : ৩৬)

এ চার মাস কী কী? হাদিস শরিফে তা বলে দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সময়ের হিসাব যথাস্থানে ফিরে এসেছে, আসমান-জমিনের সৃষ্টির সময় যেমন ছিল। (কারণ, জাহেলি যুগে আরবরা নিজেদের স্বার্থ ও মর্জিমতো মাস-বছরের হিসাব কম-বেশি ও আগপিছ করে রেখেছিল।) বার মাসে এক বছর। এর মধ্য থেকে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিক—জিলকদ, জিলহজ ও মুহাররম। আরেকটি হলো রজব।’ (বোখারি: ৪৬৬২)

হাদিসে মুহাররমকে ‘আল্লাহর মাস’ আখ্যা দিয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘রমজানের পর সবচে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা। (মুসলিম: ১১৬৩)

আর মহররম মাসের রোজার মধ্যে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ রোজা হলো আশুরার রোজা। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য সময় তা দেখিনি।’ (বোখারি : ১/২১৮)

অন্য হাদিসে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তায়ালা অতীতের এক বছরের (সগিরা) গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (মুসলিম: ১/৩৬৭, তিরমিজি: ১/১৫৮)

আশুরার রোজা মূলত ১০ই মহররমের রোজা। তবে এই রোজার সাথে আরও একটি রোজা মিলিয়ে রাখার ব্যাপারে হাদিসে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ এবং তাতে ইহুদিদের বিরোধিতা করো, আশুরার আগে একদিন বা পরে একদিন রোজা রাখো।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা: ২০৯৫)

অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরও একটি রোজা রাখবে।’

তাই ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ দুইদিন রোজা রাখা উত্তম। অবশ্য কেউ যদি শুধু ১০ মহররম রোজা রাখে তবে সেটিও আশুরার রোজা হিসাবেই গণ্য হবে। তবে হাদিসের নির্দেশনার ওপর আমল না করার কারণে মাকরূহ হবে। (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৩/৪১৮, বাদায়েউস সানায়ে: ২/২১৮, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ১/২৬৫, আলবাহরুর রায়েক: ২/২৫৭, রদ্দুল মুহতার: ২/৩৭৫)

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন