আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের পরিচয়
‘আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত’ নামের মাঝেই এই নামে অভিহিত হওয়ার মানদণ্ড বিদ্যমান। ‘আহল’ শব্দের অর্থ অনুসারী, সুন্নত অর্থ তরিকা বা আদর্শ এবং জামাত শব্দের অর্থ দল। পরিভাষায়, যে মুসলমানগণ প্রতিটি ক্ষেত্রে নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, খুলাফায়ে রাশেদিন ও সাহাবায়ে কেরামের সুন্নত অনুসরণ করে এবং কোনো অবস্থাতেই খাঁটি মুসলিমদের জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, তাদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত বলা হয়।
ইবনে হাজম আন্দালুসি (রহ.) বলেছেন, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত, আমরা যাদেরকে হকপন্থী আর তাদের বিরোধী লোকদের বাতিলপন্থী বলি তাঁরা হলেন সাহাবায়ে কেরাম, তাঁদের অনুসারী শ্রেষ্ঠ তাবেয়িগণ, হাদিসের অনুসারীগণ, আজ পর্যন্ত ফকিহদের মাঝে যারা তাঁদের অনুসারী হয়েছেন তাঁরা এবং প্রাচ্য-প্রতীচ্যের ওইসব সাধারণ মুসলিম জনগণ, যারা তাঁদের অনুসারী হয়েছেন। (সূত্র: আলি ইবনে হাজম আন্দালুসি, কিতাবুল ফিসাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল)
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত নামের উৎস
‘আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত’ নামটি সহিহ হাদিসসমূহ থেকে উৎসরিত হয়েছে। সেগুলো হলো—
আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী:
"আমার পরে তোমাদের মাঝে যারা জীবিত থাকবে অবশ্যই তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তোমরা তখন আমার সুন্নত এবং আমার পরের হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নত অনুসরণ করো। মজবুতভাবে তা ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে রেখো। সাবধান, (দ্বীনের নামে) নব-আবিষ্কৃত বিষয়াদি থেকে বেঁচে থেকো। কারণ প্রত্যেক নব-আবিষ্কার হলো বেদআত আর প্রত্যেক বেদআত হলো ভ্রষ্টতা।" (সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৬০৭)
এই হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন, যখন বিভিন্ন মত ও পথের উদ্ভব ঘটবে এবং লোকদের মধ্যে নানা মতভেদ দেখা যাবে, তখন দৃঢ়ভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খুলাফায়ে রাশেদিনের সুন্নতের উপর অটল থাকতে হবে এবং ধর্মের নামে সব ধরনের নব-আবিষ্কৃত বিষয় থেকে বিরত থাকতে হবে।
অপর এক হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয় বনি ইসরাইল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মত তিহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। একটি দল ব্যতীত তাদের সবাই জাহান্নামে যাবে।" সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা?" নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "আমার ও আমার সাহাবিগণের পথে যারা অটল থাকবে।" (সূত্র: জামে তিরমিজি, হাদিস নং ২৬৪১)
এই হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় উম্মত সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন যে, তাদের একটি দল ছাড়া বাকি বাহাত্তরটি দল দোজখের বাসিন্দা হবে। কেবল তারাই বাঁচবে, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিগণের দেখানো পথে অবিচল থাকবে।
সুতরাং, যারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরিউক্ত হাদিস দুটিতে বর্ণিত নির্দেশাবলির পরিপূর্ণ অনুসারী, তাদেরকেই ‘আহলে সুন্নত’ বলা হয়। আখেরাতে তারাই নাজাত ও বেহেশত লাভ করবে।
এবার ‘জামাত’ নামের উৎস সম্পর্কে বলা যাক।
হাদিসে এসেছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাব বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল আর এই উম্মত তিহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। বাহাত্তরটি দল জাহান্নামে যাবে আর একটি দল জান্নাতে যাবে। সেই দলটি হচ্ছে ‘আল-জামাআহ’।" (সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৫৯৬)
এই হাদিসের বর্ণনানুযায়ী তিহাত্তরটি দলের মধ্যে জান্নাতপ্রাপ্ত দলটি হচ্ছে ‘আল-জামাআহ’। এখানে আল-জামাআহ বা জামাত দ্বারা এমন মানুষদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যাঁরা কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতুন্নবি দ্বারা প্রমাণিত ও সুসাব্যস্ত হকের উপর ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত। ইবনে হাজম আন্দালুসি রহ.-এর বর্ণনানুযায়ী তাঁরা হলেন সাহাবায়ে কেরাম, তাঁদের অনুসারী শ্রেষ্ঠ তাবেয়িগণ, হাদিসের অনুসারীগণ, আজ পর্যন্ত ফকিহদের মাঝে যারা তাঁদের অনুসারী হয়েছেন তাঁরা এবং প্রাচ্য-প্রতীচ্যের ওইসব সাধারণ মুসলিম জনগণ, যারা তাঁদের অনুসারী হয়েছেন।
অতএব, উপরিউক্ত হাদিসসমূহ থেকে সুস্পষ্ট হলো যে, রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, খুলাফায়ে রাশেদিন ও সাহাবায়ে কেরামের সুন্নতের উপর অটল থাকা এবং আল-জামাআহর অন্তর্ভুক্ত হওয়া দলকেই ‘আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত’ বা ‘সুন্নত ও জামাতের অনুসারী’ নামে অভিহিত করা হয়।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী ব্যক্তির করণীয়
সুন্নত ও জামাতের অনুসারী একজন মুমিন ব্যক্তি আকিদা, ইবাদত-বন্দেগি থেকে শুরু করে আচার-ব্যবহার, লেনদেন, সামাজিকতা এক কথায় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, খুলাফায়ে রাশেদিন ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসারী হবেন। তাঁরা যে আকিদা পোষণ করতেন, তাঁদের ইবাদত-বন্দেগি যেমন ছিল এবং যেভাবে সমাজে তাঁরা চলাফেরা করতেন ইত্যাদি সকল বিষয়ে সম্পূর্ণ তাঁদের অনুকরণ করবেন। কোনো ক্ষেত্রেই নিজের বা অন্য কারো মনগড়া রেওয়াজ পালন করবেন না।
উদাহরণস্বরূপ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, খুলাফায়ে রাশেদিন ও সাহাবায়ে কেরাম একে অপরের সঙ্গে মুসাফাহা করতেন। তাঁরা যেই পদ্ধতিতে মুসাফাহা করতেন সেই সুন্নত বাদ দিয়ে বর্তমানে প্রচলিত এক হাতে হ্যান্ডশেক করা যাবে না। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী ব্যক্তি সর্বদা জামাতের সঙ্গে থাকবেন, কখনো দলছুট হবেন না। অর্থাৎ দ্বীনের সকল বিষয়ে তিনি সাহাবায়ে কেরাম, মুজতাহিদ ইমাম ও ফকিহবৃন্দ এবং হক্কানি উলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তসমূহ মেনে চলবেন। কোনো অবস্থাতেই মুসলিম জাতির অনুসৃত পথ থেকে সরে যাবেন না।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা ও বৈশিষ্ট্য
‘আল বাহরুর রাইক’ (তাকমিলাহ) কিতাবে ফিকহের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাব ‘আলহাভি’ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে—
যার মধ্যে এই দশটি বৈশিষ্ট্য থাকবে, সে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম বৈশিষ্ট্য: মহান আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে এমন কিছু না বলা, যা তাঁর গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: স্বীকার করা যে, কোরআন আল্লাহর কালাম এবং তা মাখলুক নয়।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: নেককার ও বদকার উভয় শ্রেণির মানুষের পেছনেই জুমা ও দুই ঈদের নামাজ পড়াকে জায়েয মনে করা।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: তাকদিরের ভালো-মন্দ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হওয়ার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করাকে জায়েয মনে করা।
ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: আমিরের বিরুদ্ধে তলোয়ার বের না করা।
সপ্তম বৈশিষ্ট্য: হজরত আবু বকর, উমর, উসমান ও আলি (রাযি.)-কে অন্য সকল সাহাবির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া।
অষ্টম বৈশিষ্ট্য: কোনো আহলে কেবলাকে পাপাচারের কারণে কাফের আখ্যা না দেওয়া।
নবম বৈশিষ্ট্য: আহলে কেবলার কেউ মারা গেলে তার জানাজার নামাজ আদায় করা।
দশম বৈশিষ্ট্য: মুসলমানদের ঐক্যকে রহমত ও বিচ্ছিন্নতাকে আজাব মনে করা।
(সূত্র: আল বাহরুর রাইক, তাকমিলাহ, খণ্ড- ৮, পৃষ্ঠা- ১৮২ কিতাবুল কারাহিয়্যাত)
বিভিন্ন ফেরকার মধ্যে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অবস্থান
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যমপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা অন্য লোকদের উপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসুল সাক্ষী হতে পারেন তোমাদের উপর।" (সূত্র: সুরা বাকারা, ১৪৩ নং আয়াত)
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেছেন, বরং এই উম্মত যেমন পূর্বের উম্মতসমূহের চেয়ে মধ্যমপন্থী উম্মত হিসেবে গণ্য, তেমন এই উম্মতের মধ্যকার বিভিন্ন ফেরকার চেয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারীগণ মধ্যমপন্থী হিসেবে গণ্য।
‘আল মিসবাহুল মুনির’ নামক গ্রন্থে রয়েছে, الوسط শব্দের واو এবং سين বর্ণে জবর দিয়ে পড়া হয়েছে। الوسط শব্দের অর্থ হলো সরল-সোজা। কিন্তু এখানে এই শব্দের উদ্দেশ্য হচ্ছে ন্যায়পরায়ণ ও উৎকৃষ্ট।
সুতরাং, আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারীগণ হচ্ছেন الوسط বা ন্যায়পরায়ণ ও উৎকৃষ্ট। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের ন্যায়পরায়ণ ও উৎকৃষ্ট অনুসারীগণ সর্বক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেন। কোনো ব্যাপারে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করেন না, আবার ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে অধিক ছাড়াছাড়িও পরিহার করেন।
অন্যান্য ফেরকার আকিদার সাথে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদার পার্থক্য
আকিদার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সাথে অন্য ফেরকাগুলোর অনেক পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে বেশ কয়েকটি ফেরকার সঙ্গে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের পার্থক্য তুলে ধরা হলো—
ক. আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী মহামনীষীগণ কোরআন-হাদিসের অকাট্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে ঈমানের সংজ্ঞা এরূপ নির্ধারণ করেছেন— ঈমান হলো অন্তরে বিশ্বাস, জবান দ্বারা স্বীকৃতি এবং কর্মের মাধ্যমে সম্পাদন করা। আনুগত্য ও নেক আমল করার দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পায় আর গোনাহে লিপ্ত হওয়ার দ্বারা ঈমান হ্রাস পায়।
খারেজি সম্প্রদায় ঈমানের এই পরিচয় মেনে নিলেও তারা আরেক মহাভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে। তা হলো— তারা মনে করে, কারো নেককাজ যদি পরিপূর্ণ না হয় তাহলে তার ঈমান একেবারে বিনষ্ট হয়ে যায় এবং সে কাফের বলে গণ্য হয়। তাই পৃথিবীতে তাদের রক্ত হালাল এবং তারা পরকালে দোজখের চিরস্থায়ী বাসিন্দা হবে। (সূত্র: আব্দুল কাফী আল-ইবাযী, আল মুওজায ফী আরা-ইল খাওয়ারিজ আল-কালামিয়্যাহ)
খ. মহান আল্লাহ তায়ালার সত্তাকে পবিত্র সাব্যস্ত করতে গিয়ে জাহমিয়া সম্প্রদায় সীমালঙ্ঘন করেছে। তাদের বিশ্বাস হলো, আল্লাহর জন্য সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলি সাব্যস্ত করা হলে মাখলুকের সাথে আল্লাহর সাদৃশ্য হয়ে যায়। সেজন্য তারা মহান আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলিকে একদম অস্বীকার করেছে। অপরদিকে মুশাব্বেহা সম্প্রদায় আল্লাহ তায়ালার গুণাবলিকে মানুষের গুণাবলির সমকক্ষ বানিয়ে অধিক শিথিলতা প্রদর্শন করেছে।
উক্ত পথভ্রষ্ট দুই ফেরকার বিপরীতে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মত হলো, মাখলুকের সাথে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কোনোরূপ সাদৃশ্য নেই। তিনি সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র এবং সুন্দর নামসমূহ ও গুণাবলি তাঁর বড়ত্ব ও মর্যাদার জন্য অতি শোভনীয়। আল্লাহ তায়ালার গুণাবলি কোনো অবস্থাতেই মানুষের গুণাবলির সমকক্ষ নয়। তিনি মহান, তুলনাহীন, সকলের ঊর্ধ্বে তাঁর অবস্থান।
গ. জাবরিয়া সম্প্রদায়ের আকিদা হলো, মানবজাতির স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও কর্মশক্তি নেই। তারা অসহায় যন্ত্রের মতো। আল্লাহ তাদেরকে যা করতে বাধ্য করেন, তারা তাই করে। তাই কোনো মানুষ কখনো তার কর্মের জন্য দায়ী নয়। মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, মানুষের এতই মেধাশক্তি আছে যে, তাদের আকল আল্লাহর ওহির থেকে অগ্রগণ্য।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত তাকদিরে বিশ্বাসী। তাদের মতে, তাকদিরে যা আছে মানুষ স্বীয় মেধা ও ইচ্ছাশক্তি ব্যবহার করে তাই করে। ফলে, স্বীয় কর্মের দায়ভার তার উপরই বর্তায়। মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের বিপরীতে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা হলো, মহান আল্লাহর বাণী ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস মানবীয় আকলের তুলনায় প্রাধান্যযোগ্য। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জ্ঞানের চেয়ে মানুষের জ্ঞান কখনো বড় হতে পারে না। যেসকল বিষয়ে কোরআন-হাদিসে সুস্পষ্ট কোনো বিধান নেই, কেবল সেসব ক্ষেত্রেই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী ইজমা ও কিয়াসের মুখাপেক্ষী হন।
পৃথিবীতে আরো বহু বিপথগামী ফেরকা রয়েছে। যেমন: শিয়া, কাদরিয়া, মুরজিয়া, নাজারিয়া, কালাবিয়া ইত্যাদি। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এসব ফেরকার ভ্রান্ত আকিদাসমূহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত এবং সঠিক আকিদা লালনকারী ও হকপন্থী একটি দল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভাষায় তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত এবং জান্নাত লাভকারী।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনুসারী হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং পরকালে নাজাতপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

