Logo

ধর্ম

এক মসজিদে দুইবার জুমার নামাজ পড়া যাবে?

Icon

ধর্ম ডেস্ক:

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:২৫

এক মসজিদে দুইবার জুমার নামাজ পড়া যাবে?

শুক্রবার মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। এদিন মুসল্লিরা একত্রিত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং নামাজের আগে খুতবার মাধ্যমে আল্লাহ, ইসলাম ও মানবজীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা লাভ করেন। জুমা মুসলমানদের ঈমান, ভ্রাতৃত্ব ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য আরও দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম।

শুক্রবারের মর্যাদা

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মুমিনের পুরো জীবনই ইবাদত। তবে আল্লাহ তায়ালা কিছু সময় ও দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। শুক্রবার তার মধ্যে অন্যতম।

হাদিসে শুক্রবারকে সপ্তাহের সর্বোত্তম দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিন মুসলমানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রে আল্লাহর ইবাদত করেন। ফলে জুমার নামাজ শুধু একটি ফরজ ইবাদতই নয়, মুসলিম সমাজে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

জুমার নামাজের গুরুত্ব

প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও শরিয়তসম্মতভাবে জুমার জন্য যোগ্য পুরুষ মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত সগিরা গুনাহগুলো আল্লাহ ক্ষমা করে দেন, যদি ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।

তাই কাজ, পড়াশোনা কিংবা দুনিয়াবি ব্যস্ততার কারণে জুমার নামাজ অবহেলা করা উচিত নয়। কোনো বৈধ কারণ ছাড়া ধারাবাহিকভাবে জুমা ছেড়ে দেওয়া একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

একই মসজিদে দুইবার জুমা?

শরিয়তের দৃষ্টিতে একই মসজিদে একাধিকবার জুমার জামাত করা সাধারণভাবে মাকরূহ। বিশেষ করে যে মসজিদে নির্ধারিত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও নিয়মিত মুসল্লি রয়েছেন, সেখানে একটি জামাতের পর আবার জুমার জামাত করা সমীচীন নয়।

মসজিদে জায়গার সংকট দেখা দিলে সবাইকে একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করাই উত্তম।

জায়গা না হলে কী করবেন?

যদি মসজিদে মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান না হয়, তাহলে সম্ভব হলে মসজিদের বাইরে বড় ও খোলা জায়গায় জুমার নামাজের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে সবাই একই সময়ে এক জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

তবে কোনো এলাকায় মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা একেবারেই না পাওয়া গেলে এবং বাস্তবিক প্রয়োজন দেখা দিলে শরিয়তের কিছু ফিকহি মত অনুযায়ী একাধিক জামাতের অবকাশ থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয় আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

সাহাবিদের আমল কী ছিল?

সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আমল থেকেও একই মসজিদে দ্বিতীয় জামাত না করার বিষয়টি জানা যায়। তারা মসজিদে এসে যদি জামাত শেষ হয়ে যেতে দেখতেন, তাহলে অন্য মসজিদে গিয়ে জামাতে শরিক হতেন অথবা একাকী নামাজ আদায় করতেন।

একই মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করার পরিবর্তে তারা অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন—এ থেকেই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘটনা

এক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই দলের মধ্যে আপস-মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখলেন, মসজিদের জামাত শেষ হয়ে গেছে। তখন তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে জামাত আদায় করেন।

ফকিহগণ এ ঘটনা থেকে একই মসজিদে দ্বিতীয় জামাত না করার বিষয়ে দলিল গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে, মসজিদে দ্বিতীয় জামাত সাধারণভাবে বৈধ ও অপছন্দনীয়তামুক্ত হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) সেখানেই দ্বিতীয় জামাত করতে পারতেন।

প্রথম জামাতের গুরুত্ব

একই মসজিদে দ্বিতীয় জামাতের সুযোগ চালু হলে প্রথম জামাতের গুরুত্ব ও সময়ানুবর্তিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তখন কেউ কেউ মনে করতে পারেন, প্রথম জামাত না পেলেও পরে দ্বিতীয় জামাতে নামাজ আদায় করা যাবে।

এ ধরনের মানসিকতা জুমার জামাতের মূল উদ্দেশ্য ও গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই মুসল্লিদের উচিত নির্ধারিত সময়ে মসজিদে উপস্থিত হয়ে প্রথম জামাতে জুমার নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন