Logo

ধর্ম

মিথ্যা খবরের নির্মম পরিণতি

সামাজিক মাধ্যমে চরিত্রহনন ও নৈতিকতার সংকট

Icon

মিনহাজ উদ্দীন আত্তার

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৬

অ
সামাজিক মাধ্যমে চরিত্রহনন ও নৈতিকতার সংকট

মানুষের সভ্যতার ইতিহাসে যোগাযোগের মাধ্যম যতবার বদলেছে, ততবারই বদলেছে সমাজের গতি, চিন্তার ধরন এবং ক্ষমতার কাঠামো। একসময় একটি সংবাদ এক জনপদ থেকে অন্য জনপদে পৌঁছাতে দিনের পর দিন লেগে যেত। পরে সংবাদপত্র, রেডিও ও টেলিভিশন সেই দূরত্ব কমিয়ে আনে। আর আজ একটি স্মার্টফোন, একটি ফেসবুক পোস্ট, একটি ইউটিউব ভিডিও কিংবা কয়েক সেকেন্ডের একটি লাইভ সম্প্রচার মুহূর্তের মধ্যেই কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। প্রযুক্তির এই বিস্ময়কর অগ্রগতি মানবসভ্যতার অন্যতম বড় অর্জন। এর মাধ্যমে শিক্ষা, ব্যবসা, চিকিৎসা, মানবিক সহায়তা এবং জ্ঞানচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি শক্তিশালী প্রযুক্তির মতো এরও একটি অন্ধকার দিক রয়েছে। নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের অভাবে এই একই প্রযুক্তি আজ অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য, সাইবার বুলিং, গুজব এবং চরিত্রহননের ভয়ংকর অস্ত্রে পরিণত হয়েছে।

আমাদের সমাজে একসময় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার আগে মানুষ অন্তত প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন কিংবা সমাজের প্রবীণদের প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবত। এখন সেই সামাজিক নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই দুর্বল। একটি ভুয়া আইডি, একটি সম্পাদিত ছবি, একটি প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন ভিডিও অথবা একটি মনগড়া ক্যাপশন দিয়েই মুহূর্তের মধ্যে একজন মানুষের বহু বছরের অর্জিত সম্মান প্রশ্নবিদ্ধ করে দেওয়া যায়। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, পরে সত্য প্রকাশ পেলেও অপমানের দাগ সহজে মুছে যায় না। আদালত একজন মানুষকে নির্দোষ ঘোষণা করতে পারে, কিন্তু সমাজের মনে জন্ম নেওয়া সন্দেহ, ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক কিংবা হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া আদালতের পক্ষেও সম্ভব হয় না।

ডিজিটাল যুগের এই বাস্তবতা আমাদের সামনে প্রতিদিনই নতুন নতুন উদাহরণ হাজির করছে। কখনো গুজব ছড়িয়ে নিরীহ মানুষকে গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে, কখনো সম্পাদিত ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়েছে। কোনো শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা বা সাধারণ নাগরিক একটি যাচাইহীন পোস্টের কারণে সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে চাকরি হারাতে হয়েছে, পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে গেছে, এমনকি মানসিক অবসাদে আত্মহননের ঘটনাও ঘটেছে। একটি মিথ্যা তথ্য কখনো কখনো একটি মানুষের সমগ্র জীবনকে পাল্টে দিতে পারে।

এই বাস্তবতাকে বুঝতে হলে প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের মনস্তত্ত্বও বুঝতে হবে। ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো ক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন, ক্ষমতা সব সময় দৃশ্যমান নয়; অনেক সময় তা মানুষের চিন্তা, আচরণ ও সামাজিক বিচারকে নিয়ন্ত্রণ করে। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ক্ষমতার নতুন রূপ দেখা যায়। যার হাতে একটি স্মার্টফোন, সেও কখনো কখনো নিজেকে বিচারক, তদন্তকারী এবং দণ্ডদাতা হিসেবে কল্পনা করে। কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই হওয়ার আগেই মন্তব্যের বন্যা শুরু হয়, রায় ঘোষণা হয়ে যায়, আর অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যান।

সমাজবিজ্ঞানী জিগমুন্ট বাউম্যান তাঁর Liquid Modernity গ্রন্থে লিখেছেন, আধুনিক সমাজে সম্পর্ক, দায়বদ্ধতা এবং নৈতিকতার স্থায়িত্ব ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেই প্রবণতাকে আরও তীব্র করেছে। মানুষ আজ এমন ভাষায় অন্যকে আক্রমণ করে, যা সামনাসামনি দাঁড়িয়ে বলার সাহস তার হতো না। পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই সাহস আসলে সাহস নয়; এটি দায়িত্বহীনতার এক নতুন সংস্কৃতি। এখানে একটি মন্তব্য লিখতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে, কিন্তু সেই মন্তব্যের ক্ষত একজন মানুষ বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে পারেন।

প্রযুক্তি গবেষক শোশানা জুবফ তাঁর The Age of Surveillance Capitalism গ্রন্থে দেখিয়েছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবসায়িক কাঠামো অনেকাংশেই মানুষের মনোযোগের ওপর নির্ভরশীল। যে বিষয় মানুষের আবেগকে বেশি নাড়া দেয়, ক্ষোভ সৃষ্টি করে বা কৌতূহল বাড়ায়, সেটিই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর কিংবা মানহানিকর তথ্য অনেক সময় সত্য ও ইতিবাচক তথ্যের তুলনায় বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। এতে লাভবান হয় প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হয় সামাজিক বিশ্বাস।

তবে প্রযুক্তিকে এককভাবে দায়ী করলে ভুল হবে। প্রযুক্তি নিজে নৈতিক বা অনৈতিক নয়; এর ব্যবহারই তাকে কল্যাণের অথবা ক্ষতির মাধ্যম বানায়। একটি ছুরি যেমন অস্ত্রোপচারে জীবন বাঁচাতে পারে, আবার একই ছুরি দিয়ে অপরাধও সংঘটিত হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন প্রযুক্তির নয়; প্রশ্ন মানুষের বিবেক, দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক শিক্ষার।

আজ একটি "শেয়ার" বাটনে চাপ দেওয়ার আগে আমাদের নিজেদের কাছে অন্তত তিনটি প্রশ্ন করা প্রয়োজন—এই তথ্যটি কি সত্য? এর নির্ভরযোগ্য উৎস কী? এটি ছড়িয়ে দিলে কোনো নির্দোষ মানুষের সম্মান, পরিবার বা ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না তো? দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেকেই এই প্রশ্নগুলো না করেই তথ্য প্রচার করি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় একটি মিথ্যার দীর্ঘ যাত্রা, যার শেষ প্রান্তে থাকে একজন মানুষের অপমান, একটি পরিবারের কান্না এবং একটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়।

ডিজিটাল যুগের এই সংকটের সমাধান কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এটি গভীরভাবে নৈতিক, ধর্মীয় এবং মানবিক। কারণ একটি সমাজ তখনই সুস্থ থাকে, যখন সেখানে মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের সমান মর্যাদা থাকে। ইসলাম সেই মর্যাদাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।

বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ মানবাধিকারের যে চিরন্তন ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা আজকের ডিজিটাল যুগেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের মান-সম্মান একে অপরের জন্য তেমনি পবিত্র, যেমন আজকের এই দিন, এই মাস এবং এই নগর পবিত্র।" (সহিহ বুখারি; সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একজন মানুষের সম্মান নষ্ট করা কোনো ছোট অপরাধ নয়। অনেক সময় সম্পদের ক্ষতি পূরণ করা যায়, কিন্তু একটি মিথ্যা অপবাদে নষ্ট হওয়া সম্মান, ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস কিংবা একটি পরিবারের সামাজিক মর্যাদা আর সহজে ফিরিয়ে আনা যায় না।

পবিত্র কুরআন তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে অত্যন্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, "হে ঈমানদারগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও; যাতে অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে পরে অনুতপ্ত না হও।" (সূরা আল-হুজুরাত: ৬)

ডিজিটাল যুগে এই আয়াতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ একটি যাচাইহীন পোস্ট, একটি ভুয়া স্ক্রিনশট কিংবা একটি সম্পাদিত ভিডিও কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। পরে সত্য প্রকাশ পেলেও অনেক সময় সেই মিথ্যা মানুষের মন থেকে আর মুছে যায় না।

একই সূরায় আল্লাহ আরও বলেন, "তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না।"(সূরা আল-হুজুরাত: ১২)

আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের ব্যক্তিগত জীবন অনুসন্ধান, গোপন ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, কটূক্তি করা কিংবা অপমানজনক মন্তব্য করা যেন অনেকের কাছে বিনোদনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ ইসলাম এসবকেই নৈতিক অবক্ষয়ের লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন-এ গীবত, অপবাদ এবং কুৎসা রটনাকে মানুষের আত্মিক ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, মানুষের জিহ্বা সবচেয়ে বেশি অন্যায় করে। বর্তমান যুগে সেই জিহ্বার জায়গা অনেকাংশে দখল করেছে কীবোর্ড, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তাই আজ একটি মন্তব্য, একটি পোস্ট কিংবা একটি শেয়ারও মানুষের আমলনামার অংশ হয়ে যাচ্ছে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) বলেছেন, ন্যায়বিচারের ওপরই সমাজ টিকে থাকে। অন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার নষ্ট করা কিংবা তার সম্মান ক্ষুণ্ন করা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। অন্যদিকে হাদিসবিশারদ ইবন হাজার আল-আসকালানী (রহ.) গীবতের ব্যাখ্যায় বলেন, মানুষের অনুপস্থিতিতে এমন কথা বলা, যা সে শুনলে কষ্ট পাবে—সেটিই গীবত। আর যদি সেই কথাই মিথ্যা হয়, তবে তা গীবত নয়; বরং আরও ভয়াবহ অপরাধ—বুহতান বা অপবাদ।

বাস্তবতা হলো, আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তদন্তের আগেই রায় দিয়ে দেন। কোনো দুর্ঘটনা, কোনো অভিযোগ বা কোনো ব্যক্তিগত ঘটনার সত্যতা যাচাই হওয়ার আগেই তাকে দোষী বানিয়ে দেওয়া হয়। পরে যদি প্রমাণ হয় যে অভিযোগটি ভিত্তিহীন ছিল, তখন খুব কম মানুষই সেই মিথ্যা তথ্য সংশোধন করেন। অথচ একটি মিথ্যা সংবাদ যে মানসিক ক্ষত তৈরি করে, তার দায় শুধু লেখকের নয়; যারা যাচাই না করেই তা ছড়িয়ে দেয়, তারাও সেই দায় থেকে মুক্ত নয়।

এই সংকট মোকাবিলায় শুধু আইন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ। পরিবারে সন্তানকে শেখাতে হবে, সত্য যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার করা দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল নৈতিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। গণমাধ্যমকে সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আর মসজিদের খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সম্মান রক্ষার ইসলামী শিক্ষা আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

প্রতিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরও কিছু ব্যক্তিগত দায়িত্ব রয়েছে। কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার উৎস যাচাই করা, অন্যের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ না করা, বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য থেকে বিরত থাকা এবং মতভেদ প্রকাশেও শালীন ভাষা ব্যবহার করা—এসব শুধু ভদ্রতার বিষয় নয়; এগুলো একজন সচেতন নাগরিক ও একজন ঈমানদার মানুষের দায়িত্ব।

আমাদের মনে রাখা উচিত, স্ক্রিনের ওপারে থাকা মানুষটিও কারও বাবা, মা, ভাই, বোন, সন্তান কিংবা প্রিয়জন। একটি মিথ্যা পোস্ট হয়তো আমাদের কাছে কয়েক সেকেন্ডের উত্তেজনা, কিন্তু অন্য একটি পরিবারের জন্য তা হতে পারে সারাজীবনের অপমান, বিষণ্নতা কিংবা অপূরণীয় ক্ষতির কারণ।

প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য এসেছে, মানুষের সম্মান ধ্বংস করার জন্য নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিদ্বেষ, গুজব ও চরিত্রহননের প্ল্যাটফর্ম না বানিয়ে সত্য, সৌজন্য, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। কারণ একটি সভ্য সমাজের প্রকৃত পরিচয় প্রযুক্তির উৎকর্ষে নয়; সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা, মানুষের মর্যাদার প্রতি সম্মান এবং নৈতিক চরিত্রের মধ্যেই তার আসল সৌন্দর্য নিহিত।

লেখক: আলেম ও কৃষি উদ্যোক্তা; ফাউন্ডার, কতকিছুর হাট। ই-মেইল: minhazantor10@gmail.com

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন