ঐক্যই শক্তি। ঐক্যের মাধ্যমে অনেক কঠিন কাজ সহজে করা যায়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে মুসলিমদের ঐক্য ও সংহতির বিষয়ে একাধিক আয়াত নাজিল করেছেন। নিচে তা তুলে ধরা হলো-
১. ‘(তোমরা) আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখো এবং বিভেদ কোরো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করো। তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, আল্লাহ তোমাদের অন্তরগুলো জুড়ে দিলেন, ফলে তাঁর দয়ায় তোমরা ভাই ভাই হয়ে গেলে। …’ (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ১০৩)
২. অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর কলহ কোরো না (ঐক্যবদ্ধ থাকো)। অন্যথায় তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব বিলুপ্ত হবে। …’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৪৬)
৩. পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দিলে আল্লাহ ও রাসুলের ওপরই বিষয়টি ন্যস্ত করো, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো। এটাই উৎকৃষ্ট পন্থা এবং এর পরিণামও সর্বাপেক্ষা শুভ।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৫৯)
৪. পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সব মুমিন ভাই ভাই। কাজেই তোমাদের ভাইদের মধ্যে শান্তি-সমঝোতা করে দাও। আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১০)
৫. আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মুমিনদের দুটি দল যদি নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। এরপর তাদের এক দল যদি অন্য দলের ওপর বাড়াবাড়ি করে, তবে বাড়াবাড়ি করা দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো—যতক্ষণ না তারা আল্লাহর ফায়সালার পথে ফিরে না আসে। …’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ৯)
মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ ও বিদ্বেষ জিইয়ে রাখা শয়তানের কাজ। তাই বিভেদ দূর করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করতে হবে। সহিষ্ণুতা, কল্যাণকামিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে হবে। তাহলে আমাদের সমাজ অনেক সুন্দর ও সহাবস্থানের উপযুক্ত হবে ইনশআল্লাহ।
বিএইচ/

