ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়র ও বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। স্প্যানিশ ফুটবলে একের পর এক বর্ণবাদী ও ধর্মবিদ্বেষী ঘটনার প্রতিবাদে ইয়ামালের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভিনিসিউস। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড জোর দিয়ে বলেছেন, যাদের কথা বলার সুযোগ নেই, তাদের রক্ষায় তারকা ফুটবলারদের এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা উচিত।
ঘটনার সূত্রপাত স্পেন ও মিশরের মধ্যকার সাম্প্রতিক এক প্রীতি ম্যাচে। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও গ্যালারি থেকে ভেসে আসে বিদ্বেষমূলক আচরণ । দর্শকদের একটি অংশ ইয়ামালের নিয়ে উপহাস করতে থাকে। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালও চুপ থাকেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই ঘৃণ্য আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে দায়ীদের ‘অজ্ঞ’ ও ‘বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দেন।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের খেলোয়াড় হলেও ইয়ামালের এই লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ভিনিসিউস। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের বড় ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘লামিনের কথা বলাটা খুব জরুরি, কারণ সে অন্যদের সাহস জোগাতে পারবে। আমাদের খ্যাতি ও অর্থ আছে, তাই আমরা হয়তো অনেক কিছু সামলে নিতে পারি। কিন্তু সাধারণ গরিব মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অনেক বেশি কঠিন। তাই আমাদের এক থাকতে হবে।’
ভিনিসিউস আরো যোগ করেন, আমি বলছি না যে স্পেন, জার্মানি বা পর্তুগাল বর্ণবাদী দেশ। কিন্তু সব দেশেই কিছু বর্ণবাদী মানুষ থাকে। আমরা যদি একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাই, তবে ভবিষ্যতে নতুন ফুটবলারদের আর এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
মাঠের এই বিদ্বেষমূলক আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কাতালান পুলিশ ইতোমধ্যে এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। ফুটবলারদের সুরক্ষায় স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে।
নিজেও প্রতিনিয়ত মাঠে বর্ণবাদের শিকার হওয়া ভিনিসিউস মনে করেন, ফুটবলারদের এই ঐক্যই পারে আগামীর সুন্দর ও বৈষম্যহীন ফুটবলের পথ তৈরি করতে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

