লরা কার্ডোসো
ক্রিকেট বিশ্বে ব্রাজিল সাধারণত ‘ফুটবল পাগল’ দেশ হিসেবে পরিচিত হলেও এবার তাদের এক নারী ক্রিকেটার এমন এক কীর্তি গড়েছেন, যা ক্রিকেট ইতিহাসে এর আগে কখনও দেখেনি কেউ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে (পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগ মিলিয়ে) প্রথম বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ৯টি উইকেট নেওয়ার অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ব্রাজিলিয়ান পেসার লরা কার্ডোসো।
বতসোয়ানায় অনুষ্ঠিত ‘কালাহারি নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট’-এ
লেসোথোর বিপক্ষে এই নতুন ইতিহাস লেখেন লরা। মাত্র ৩ ওভার বোলিং করে ২-টি মেডেনসহ ৪
রান খরচায় তিনি তুলে নেন প্রতিপক্ষের ৯ জন ব্যাটারকে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই
এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগার। বোলিংয়ে কার্ডোসোর ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয় ইনিংসের
দ্বিতীয় ওভার থেকেই। সেই ওভারেই হ্যাটট্রিক করে লেসোথোকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে (ইনিংসের চতুর্থ ওভার) আরও ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের শিকার সংখ্যা
৭-এ নিয়ে যান। এরপর ষষ্ঠ ওভারে আরও দুই উইকেট নিয়ে এক ইনিংসে ৯ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ
করেন তিনি। দশম উইকেটটিও তাঁর হতে পারত, তবে মারিয়ানে আর্তুর শেষ উইকেটটি নিলে সেই
সুযোগ হাতছাড়া হয়।
লরা কার্ডোসোর এই জাদুকরী পারফরম্যান্সের আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি ছিল ভুটানের পেসার সোনম ইয়েশের দখলে। তিনি ২০২৫ সালে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে ৭ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে নারীদের টি-টোয়েন্টিতে সেরা রেকর্ডটি ছিল ইন্দোনেশিয়ার রোহমালিয়া
রোহমালিয়ার (২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ০ রানে ৭ উইকেট)। লরা কার্ডোসো আজ তাঁদের
দুজনকেই ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেলেন। ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ব্রাজিল রবার্তা
অ্যাভেরি (৪৮) এবং মনিক মাচাদোর (৬৯*) ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ২০২ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে। জবাবে
লরার বোলিং তোপে লেসোথো মাত্র ৬.২ ওভারে মাত্র ১৩ রানেই অলআউট হয়ে যায়। এর মধ্যে লেসোথোর
৭ জন ব্যাটারই রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ফেরেন। ১৮৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়
ব্রাজিল।
বতসোয়ানা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে
গ্যাবোরোনে ৬টি দেশ নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টে
স্বাগতিক বতসোয়ানা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে মালাউই, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক এবং
লেসোথো। ২১ বছর বয়সী লরা কার্ডোসোর এই কীর্তি কেবল ব্রাজিলের জন্যই নয়, বরং উদীয়মান
ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

