১৬ বছরেই ইতিহাস গড়তে চায় ফুটবলের বিস্ময়বালিকা ক্লডিয়া
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪০
ক্লডিয়া শিউনেম্যান
নারী ফুটবলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জানান দিতে প্রস্তুত ইন্দোনেশিয়া। প্রথমবারের মতো আয়োজিত নারী ‘ফিফা সিরিজ’-এ অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি।
থাইল্যান্ডের রাচাবুরিতে আগামী ১২ ও ১৫
এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক থাইল্যান্ড, কঙ্গো ডিআর এবং নিউ ক্যালেডোনিয়ার
মুখোমুখি হবে ‘গারুদা পোরতিউই’রা।
আর এই মিশনে ইন্দোনেশিয়ার প্রধান অস্ত্র মাত্র ১৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ক্লডিয়া শিউনেম্যান।
ডাচ ক্লাব এফসি উট্রেখট-এর হয়ে খেলা ক্লডিয়ার
উত্থান কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে জাতীয় দলে ডাক পেয়ে সবাইকে চমকে
দিয়েছিলেন তিনি। ছেলেদের সঙ্গে খেলে বড় হওয়া এই ফুটবলার সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে গোল করে
নিজের অভিষেককে স্মরণীয় করে রাখেন। বর্তমানে মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি ইন্দোনেশিয়ার
ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
নিজের লক্ষ্য নিয়ে ক্লডিয়া বলেন,
"আমি নিজেকে আরও উন্নত করতে চাই এবং যতদিন সম্ভব এই শীর্ষ গোলদাতার স্থানটি ধরে
রাখতে চাই।"
১২ এপ্রিল কঙ্গো ডিআর-এর বিপক্ষে ম্যাচ
দিয়ে ফিফা সিরিজ শুরু করবে ইন্দোনেশিয়া। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ক্লডিয়া জানান, "এটি
আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কঙ্গোর খেলোয়াড়রা শারীরিকভাবে অনেক শক্তিশালী এবং কৌশলী।
যেহেতু আমরা একে অপরের খেলার ধরন জানি না, তাই দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই হবে জয়ের চাবিকাঠি।"
টুর্নামেন্টে তাদের লক্ষ্য দুটি ম্যাচই জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
নিজের খেলার শৈলী নিয়ে ক্লডিয়া জানান,
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি অ্যালেক্স মরগানকে আইডল মানেন। এছাড়া লিওনেল মেসি এবং
নেইমারের খেলা তাকে প্রবলভাবে টানে। বিশেষ করে নেইমারের নান্দনিক ফুটবল তাকে রোমাঞ্চ
দেয়। ঘরোয়া ফুটবলে তিনি ইন্দোনেশিয়ার পুরুষ দলের তারকা মার্সেলিনো ফার্দিনান এবং বেকহ্যাম
পুত্রার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পান। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে খেলার সাহস তিনি মার্সেলিনোর
কাছ থেকেই পেয়েছেন।
জার্মানির হামবুর্গ এবং বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের
উট্রেখট-এ খেলার অভিজ্ঞতা ক্লডিয়াকে মানসিকভাবে অনেক পরিপক্ব করেছে। জার্মানির শারীরিক
ফুটবল এবং ডাচদের কৌশলী ফুটবলের সংমিশ্রণ তাকে একজন চৌকস ফরোয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলেছে।
তবে ক্লডিয়ার আসল স্বপ্ন ২০৩১ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপে খেলা।
তিনি বলেন, "একদিন আমি বিশ্বকাপের
মাঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইতে চাই এবং গোল করে দেশের মানুষকে গর্বিত করতে চাই। এই
ফিফা সিরিজ সেই স্বপ্নের পথে আমাদের প্রথম ধাপ।"
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নারী ফুটবলে ক্লডিয়া
শিউনেম্যান এখন কেবল একটি নাম নয়, বরং এক উজ্জ্বল সম্ভাবনার প্রতীক। ফিফা সিরিজে তার
পারফরম্যান্সই বলে দেবে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বমঞ্চের জন্য কতটা প্রস্তুত।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

