বিসিবিতে বারবার সভাপতি বদল প্রসঙ্গে
এখন আর কিছুতেই অবাক হই না: ফিল সিমন্স
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫০
কোচ ফিল সিমন্স
আগামী শুক্রবার থেকে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তবে মাঠের ক্রিকেটের চেয়েও বর্তমানে টক অফ দ্য কান্ট্রি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পদে একের পর এক নাটকীয় পরিবর্তন।
২০২৪ সালের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর
থেকে এখন পর্যন্ত দেড় বছরেরও কম সময়ে তিনজন সভাপতিকে দেখলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
বুধবার মিরপুরে সিরিজ পূর্ববর্তী সংবাদ
সম্মেলনে তাই অবধারিতভাবেই ক্রিকেটের চেয়ে বোর্ডের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে
হয়েছে এই ক্যারিবীয় কোচকে। প্রথম পাঁচটি প্রশ্নই ছিল এই ইস্যু নিয়ে। তবে ৬৩ বছর বয়সী
অভিজ্ঞ সিমন্স সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বেশ চওড়া হাসিতে।
বিসিবিতে এত দ্রুত নেতৃত্বের পরিবর্তন
কি আপনাকে অবাক করে?—এমন প্রশ্নের জবাবে সিমন্স বলেন, “এখন আর জীবনে
কিছুতেই আমি অবাক হই না। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা অন্য কিছুর সম্পর্ক নেই, এটা স্রেফ জীবনের
ব্যাপার। আমি জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছি, তাই জানি প্রতিদিন অনেক কিছু ঘটতে পারে।
কোনো কিছুতেই আমি আর বিস্মিত হই না।”
ফিল সিমন্সের অধীনে বাংলাদেশ দল যখন খেলা
শুরু করে, তখন বিসিবি প্রধান ছিলেন ফারুক আহমেদ। এরপর ১৬ মে তাঁর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত
হন আমিনুল ইসলাম। কিন্তু গত ৭ এপ্রিল নাটকীয়ভাবে আমিনুলের কমিটি ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া
পরিষদ এবং অ্যাডহক কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
যিনি সিমন্সের কোচিংয়ের শুরুতেও জাতীয় দলের একজন সক্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন।
নতুন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে ইতোমধ্যে
কয়েকবার আলাপ হয়েছে বলে জানান সিমন্স। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমাদের
স্টাফদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। দুই দিন আগে খেলা চলাকালীন তিনি ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন
এবং আমাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছেন।”
বোর্ড প্রধানের পরিবর্তনে কোচিং পরিকল্পনায়
কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এমন প্রশ্নে সিমন্স বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, “সভাপতি পরিবর্তন
হলেও আমার দায়িত্ব পালনে কোনো পার্থক্য গড়ে দেয় না। তারা তো হেড কোচ হয়ে আসছেন না।
আমরা একটা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছি। কেউ এসে আমাদের
পরিকল্পনা বদলানোর চেষ্টা করেনি।”
মাঠের বাইরের এসব অস্থিরতা ক্রিকেটারদের
মনস্তাত্ত্বিক কোনো চাপে ফেলছে কি না, সে বিষয়ে সিমন্স বলেন, “আমাদের অনুশীলন
বা ক্যাম্পে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব হয়েছে। আমি খেলোয়াড়দের মধ্যে
কোনো মানসিক চাপের ছাপ দেখিনি, বরং কেউ কেউ আগের চেয়েও কঠোর পরিশ্রম করছে।”
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে বোর্ডের রাজনীতি
নিয়ে একের পর এক প্রশ্নে কিছুটা ক্লান্ত হয়ে সিমন্স হাস্যরসাত্মকভাবে বলে ওঠেন, “এবার ক্রিকেটের
প্রশ্নে ফেরা যাক...।”
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের
প্রথম দুটি ওয়ানডে হবে মিরপুরে এবং শেষ ম্যাচটি হবে চট্টগ্রামে। তিনটি ম্যাচই শুরু
হবে সকাল ১১টায়। ওয়ানডে সিরিজ শেষে দুই দল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি
হবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

