এনামুল হক বিজয়
দীর্ঘদিনের নিরবতা ভেঙে অবশেষে ক্রিকেট মাঠে ফিরছেন জাতীয় দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ফিক্সিং সন্দেহের তালিকায় নাম থাকায় সবশেষ বিপিএলসহ বেশ কিছু ঘরোয়া টুর্নামেন্টে তাকে দেখা যায়নি।
তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে শনিবার ঢাকা প্রিমিয়ার
লিগের (ডিপিএল) দলবদলের প্রথম দিনে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন
তিনি। দলবদল শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজয় তার প্রস্তুতি, বিসিবির ভূমিকা এবং
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচকতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
ফিক্সিং ইস্যুতে তাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি
হয়েছিল, তা নিয়ে বিসিবির বর্তমান অ্যাড-হক কমিটির প্রতি নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরেন
বিজয়। তিনি বলেন, “আমি চেয়েছি বিসিবি যেন পুরো বিষয়টাকে সুন্দরভাবে সবার কাছে উপস্থাপন
করে। আমার অপরাধ নেই—এই জিনিসটা সামাজিকভাবে পরিষ্কার করা দরকার। সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল
মিডিয়ায় একেকজন একেকভাবে আমাকে উপস্থাপন করেছে, যা আমাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।”
বিজয় আরও জানান যে, নতুন বোর্ড সভাপতির
সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে কথা হয়েছে এবং বোর্ড তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব ও সম্মান দিয়েছে।
তিনি আশা করেন, বিসিবি তার কলঙ্কমুক্ত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করবে।
দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে
থাকায় ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন বিজয়। বর্তমানে প্রস্তুতি কেমন—এমন প্রশ্নে তিনি
বলেন, “সত্যি বলতে আমি
এখনও শতভাগ তৈরি নই। তবে লিগ শুরু হতে ১৫ দিনের মতো সময় আছে। মানসিকভাবে প্রস্তুতি
নিয়েছি এবং নিয়মিত অনুশীলন করছি। আশা করি মাঠের লড়াই শুরুর আগেই নিজেকে পুরোপুরি তৈরি
করে নিতে পারব।” অনলাইন দুনিয়ায় অকারণে ট্রল বা নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে হতাশা প্রকাশ
করে এই ক্রিকেটার বলেন, “চারপাশে শুধু নেতিবাচকতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকালেই মন্তব্যের ঘরে শুধু
বাজে কথা দেখি। আমি চাই মানুষ ইতিবাচক শক্তি নিয়ে কথা বলুক। আমরা যেন নেতিবাচক বিষয়গুলো
পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারি।”
দীর্ঘদিন আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংকে খেলা
বিজয় এবার ঢাকা লিগের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব মোহামেডানে নাম লিখিয়েছেন। ছোটবেলার
আবেগের জায়গা থেকে তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে আবাহনী-মোহামেডান লড়াই দেখে বড় হয়েছি। দীর্ঘদিন আবাহনীতে
খেলেছি, এবার মোহামেডানের মতো বড় দলে খেলার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। বড় এবং জেতা দলে
খেললে মানসিকতাও বিজয়ীদের মতো থাকে।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিপিএলের
ড্রাফটের আগে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের প্রাথমিক সন্দেহের গুঞ্জন
ওঠে, যার মধ্যে বিজয়ের নামও ছিল। ফলে বিপিএলে তাকে কোনো দল নেয়নি। তবে সাম্প্রতিক তদন্তে
কোনো অকাট্য প্রমাণ না পাওয়ায় এবং বিসিবির সবুজ সংকেত মেলায় তিনি আবারও প্রিমিয়ার লিগের
মাধ্যমে ক্রিকেটে ফিরছেন। তার এই ফেরা মোহামেডানের ব্যাটিং শক্তিকে আরও বৃদ্ধি করবে
বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

